আমাদের চারপাশের অতি চেনা সম্পর্ক, দায়িত্ব আর ভালোবাসার এক টানাপোড়েনের গল্প নিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে নতুন সিনেমা 'লাইফলাইন'। নির্মাতা কাজী আসাদের পরিচালনায় এই সিনেমাটি দর্শকদের চেনা জীবনের এক নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। 'লাইফলাইন'-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রশংসিত অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। পুরো সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে মিমের চরিত্রের এক অভিনব ও চ্যালেঞ্জিং সফরকে কেন্দ্র করে। আর এই যাত্রায় মিমের সহযাত্রী ও সহযোগী হিসেবে পর্দায় হাজির হয়েছেন অভিনেতা রিজওয়ান পারভেজ। কঠিন আর দুর্গম রাস্তায় মিমকে বাইকে করে বিভিন্ন গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে দুজনের খুনসুটি ও ঝগড়া সব মিলিয়ে পর্দায় এক দারুণ রসায়ন দেখতে পাবেন দর্শক।

সম্প্রতি সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রদর্শনী শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের অভিজ্ঞতা ও আবেগ প্রকাশ করেন বিদ্যা সিনহা মিম। সহশিল্পীর অভিনয় ও সহযোগিতার প্রশংসা করে মিম বলেন, শুটিংয়ের সময় কখনোই মনে হয়নি যে তারা অভিনয় করছিলেন। পাশ থেকে যখন চমৎকার সাপোর্ট আসে, তখন অভিনয়টা একদম স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। পুরো সময়টাতে মিমের মনে হচ্ছিল এটি তার অভিনীত চরিত্র ‘অনন্যা’র এক সত্যিকারের জার্নি বা জীবন সফর। শুটিংয়ের চমৎকার ও দুর্গম সব লোকেশনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে মিম জানান, কুয়াকাটার তীব্র ভেতরের দিকে গিয়ে তারা শুটিং করেছেন। প্রথমে তিনি ঢাকার আশেপাশে শুটিং করার কথা বললেও, পরিচালকের পিড়াপিড়িতে সেখানে যান। গাড়ি যাওয়ার रास्ता না থাকায় ভ্যান বা বাইকে করে দুর্গম লোকেশনে পৌঁছাতে হয়েছিল তাদের। তবে দৃশ্য ধারণের পর মিম নিজেই স্বীকার করেন যে, গল্পের প্রয়োজনেই এমন একটি লোকেশন দরকার ছিল।

চরকির সাথে এটিই মিমের প্রথম কাজ এবং এই নতুন যাত্রা নিয়ে তিনি দারুণ উচ্ছ্বসিত। পুরো টিমের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা মিমকে মুগ্ধ করেছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, সিনেমার এই গল্পের সাথে নিজের বাস্তব জীবনের এক অদ্ভুত ও আবেগঘন মিল খুঁজে পেয়েছেন এই অভিনেত্রী। মিম জানান, এখানে পর্দায় যা দেখানো হয়েছে, তার বাস্তব জীবনটাও ঠিক এমনই। তিনি নিজের মা-বাবার সাথে অত্যন্ত গভীরভাবে মিশে আছেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাবা-মায়ের অসুস্থতা এবং তাদের পাশে থেকে সন্তান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার যে কঠিন জার্নি, মিম নিজেও এখন বাস্তব জীবনে ঠিক একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।