বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি এবং তার স্বামী পিটার হ্যাগের ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ এখন এক তিক্ত আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। পারিবারিক সহিংসতা ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে গত বছরের নভেম্বরে মুম্বাইয়ের আন্ধেরি আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন সেলিনা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে নিজের জীবনের এই কঠিন সত্য ভক্তদের সামনে তুলে ধরেছেন তিনি।

সেলিনা তার পোস্টে লিখেছেন, "সফল ও শিক্ষিত হয়েও কেন একজন মানুষ ১৫ বছর ধরে নির্যাতন সহ্য করে, সেই উত্তর দিতে দিতে বেঁচে যাওয়া মানুষরা ক্লান্ত।" তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, নির্যাতন কখনো সরাসরি শুরু হয় না; বরং ভালোবাসা আর সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দিয়েই এর সূত্রপাত। ভালো দিন আসার এক অবাস্তব 'আশা' মানুষকে এই বিষাক্ত চক্রে আটকে ফেলে এবং একসময় মানসিক ও মৌখিক নিগ্রহ সহ্য করাটা তাদের কাছে 'স্বাভাবিক' হয়ে দাঁড়ায়।

এদিকে, বিচ্ছেদের বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক আইনি জটিলতায় মোড় নিয়েছে। সেলিনা মুম্বাইয়ে আবেদন করলেও তার স্বামী পিটার হ্যাগ অস্ট্রিয়ার আদালতে পাল্টা মামলা করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, ভিয়েনার সম্পত্তি বিক্রির তথ্য গোপন রাখতেই পিটার এই পদক্ষেপ নিয়েছেন যাতে সেলিনা কোনো আইনি ভাগ না পান। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সেলিনা পারস্পরিক সম্মতিতে বিচ্ছেদের প্রস্তাব দিলেও পিটার তাতে রাজি হননি, উল্টো সংসার ভাঙার জন্য সেলিনাকেই দায়ী করছেন।