আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঢালিউড পাড়ায় বইছে অন্যরকম এক উন্মাদনা। বছরের অন্য সময় প্রেক্ষাগৃহগুলো দর্শক খরায় ভুগলেও, দুই ঈদ ঘিরে বরাবরের মতো এবারও তৈরি হয়েছে বড় আশার আলো। তবে এবারের ঈদে সিনেমা মুক্তির সংখ্যা যেন সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে চলেছে। এখন পর্যন্ত ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ১২টি সিনেমা মুক্তির তালিকায় নাম লিখিয়েছে। শাকিব খানের ‘প্রিন্স’, আফরান নিশোর ‘দম’ থেকে শুরু করে আরিফিন শুভর ‘মালিক’। তারকাদের এই ভিড়ে শেষ পর্যন্ত কয়টি ছবি টিকে থাকবে এবং ব্যবসায়িক সাফল্য পাবে, তা নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মনে দেখা দিয়েছে সংশয়।

এই ঈদের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ সিনেমাটিকে। নব্বই দশকের গ্যাংস্টার কালচার নিয়ে নির্মিত এই ছবির শুটিং নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ দিনরাত এক করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ছোট পর্দা ও ওটিটির জনপ্রিয় মুখ আফরান নিশো ফিরছেন ‘দম’ নিয়ে। কাজাখস্তানে ধারণ করা এই সারভাইভাল থ্রিলারটি পরিচালনা করেছেন রেদওয়ান রনি। এছাড়া অ্যাকশন ঘরানার ‘মালিক’ ও ‘রাক্ষস’ সিনেমা দুটিও তরুণ দর্শকদের মাঝে বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, রায়হান রাফী তাঁর ‘প্রেশার কুকার’ সিনেমায় প্রথাগত নায়ক ছাড়াই নারী চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই তুলে ধরছেন, যা এরই মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শুধু অ্যাকশন বা থ্রিলার নয়, এবার ঈদের তালিকায় রয়েছে সাহিত্যনির্ভর ও ভিন্নধর্মী গল্পের সিনেমাও। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে তানিম নূর নির্মাণ করেছেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, যেখানে সাবিলা নূর, মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরীর মতো শক্তিশালী অভিনেতাদের দেখা যাবে। এছাড়া সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘ডোডোর গল্প’ দিয়ে পর্দায় ফিরছেন পরীমনি। তালিকায় আরও আছে ‘ট্রাইব্যুনাল’, ‘দুর্বার’, ‘রঙবাজার’ ও ‘পিনিক’-এর মতো চলচ্চিত্র। তবে এতগুলো সিনেমার ভিড়ে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রেক্ষাগৃহের সংকট।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সারা দেশে বর্তমানে নিয়মিত সচল হলের সংখ্যা মাত্র ৬০ থেকে ৭০টি। ঈদের মৌসুমে বন্ধ থাকা কিছু হল চালু হলেও সেই সংখ্যা দেড়শর বেশি হয় না। এই সীমিত সংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে ১২টি সিনেমা মুক্তি দেওয়াকে লগ্নির জন্য বড় ঝুঁকি মনে করছেন প্রদর্শক সমিতি ও হল মালিকেরা। তাঁদের মতে, গাদাগাদি করে এত ছবি মুক্তি না দিয়ে সর্বোচ্চ ৩-৪টি মানসম্মত ছবি মুক্তি পেলে প্রযোজক ও হল মালিক, উভয় পক্ষই লাভবান হতো। সংখ্যার এই অসম লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোন সিনেমাগুলো প্রেক্ষাগৃহে রাজত্ব করবে, তা দেখার জন্য এখন ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।