মডেল-অভিনেত্রী হানা কুরাকির মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। সংবাদমাধ্যম দ্য উইকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ কিংবা অভিনেত্রীর ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি এসওয়ান এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য আত্মহত্যা, পারিবারিক সহিংসতা ও তোলাবাজির সঙ্গে তার মৃত্যুর যোগসূত্র নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, যে ফ্ল্যাট থেকে হানা কুরাকির মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেটির মালিক বার ব্যবসায়ী সাকিতো। তিনি ফ্ল্যাটটি ভাড়া দিয়েছিলেন হানার সাবেক প্রেমিক শোতা তাইরাকে। ২৯ বছর বয়সী শোতা একজন সাবেক আইডল ও পরিচিত তারকা উপস্থাপক। ২০২৫ সালে নিজ গ্রুপের সর্বোচ্চ আয়কারী সদস্যও ছিলেন তিনি।

হানার মৃত্যুর আগে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই চিরকুটের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে শোতা তাইরা চাবি ব্যবহার করে হানার ঘরে প্রবেশ করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এর প্রায় এক মাস পর হামলা ও চুরির সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এরপর শোতার বাবা হানাকে হুমকি দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতির কারণে হানা শেষ পর্যন্ত আপস-মীমাংসায় রাজি হয়েছিলেন। তবে তার অভিযোগ, মীমাংসার সময় নির্ধারিত শর্তগুলো পরবর্তীতে মানা হয়নি।

এদিকে ফ্ল্যাটের মালিক সাকিতো জানিয়েছেন, হানার মরদেহ তিনিই প্রথম উদ্ধার করেছিলেন বলে যে দাবি ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়। হানার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তিনি জানান, তার এক বন্ধু প্রথমে ফ্ল্যাটে গিয়ে হানাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান এবং পরে বিষয়টি তাকে জানান।

সাকিতো আরও জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং টোকিও পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে তিনি পরে ওই বাসভবনে যান। একইসঙ্গে হানার সাবেক প্রেমিক শোতা তাইরাকেও ফোনে মৃত্যুর খবর জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই ঘণ্টা পর শোতা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

হানা কুরাকি বিউটিশিয়ান হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি হেয়ার ও মেকআপ সহকারী হিসেবে কাজ করেন। ২০২৪ সালে এসওয়ান লেবেলের মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পাশাপাশি প্রকাশ করেন একটি ফটোবুক। একই বছর অভিনয়েও অভিষেক হয় তার।