মঞ্চের আলোয় প্রথম পা রাখা এক স্বপ্নবাজ তরুণী আইনুন পুতুল। চোখে ছিল অভিনয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা আর ভেতরে অদম্য সাহস। সময়ের সঙ্গে নাটক, সিনেমা ও বিজ্ঞাপনের পর্দায় নিয়মিত কাজ করে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। ২০০৬ সালে ‘ঘাটের কথা’ নাটকে কুসুম চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন তিনি। এরপর হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্ট চরিত্রে অভিনয় এবং ‘ঘেটুপুত্র কমলা’সহ একাধিক উল্লেখযোগ্য কাজ তাকে শোবিজ অঙ্গনে পরিচিত মুখে পরিণত করে। এই সাফল্যের আড়ালে রয়েছে দীর্ঘ পথচলা, নীরব সংগ্রাম আর বহু না বলা গল্প।
আইনুন পুতুলের অভিনয় জীবন শুরু হয় ২০০৬ সালে। প্রায় দুই দশকের এই যাত্রার শুরুটা ছিল তার জন্য ভীষণ আনন্দের। তখন তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মফস্বল থেকে উঠে আসা এক তরুণী। প্রথম কাজ ‘ঘাটের কথা’ নাটকে সেলিম আল দীন-এর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া এবং কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা ছিল তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। নিজের কাজ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে, বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন দেখবেন, এই ভাবনাটাই তাকে ভীষণভাবে উচ্ছ্বসিত করেছিল।
হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কাজ করাকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখেন। তার বেশ কয়েকটি নাটক ও একটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন পুতুল। প্রায় ১৪০০ প্রতিযোগীর মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে ‘জহির কারিগর’ নাটকের মাধ্যমে তার সঙ্গে কাজ শুরু হয়। হুমায়ূন আহমেদের স্নেহ, শুটিং সেটের প্রাণবন্ত পরিবেশ, মুহূর্তে সংলাপ লেখা আর নির্দেশনা দেওয়া, সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটি ছিল স্মরণীয়। ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তার সঙ্গে কাজ করার সময়, বিশেষ করে ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ সিনেমার জন্য সুনামগঞ্জে দীর্ঘ শুটিংয়ের স্মৃতি আজও তার কাছে অমূল্য।
থিয়েটারই আইনুন পুতুলের অভিনয় জীবনের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। ছোটবেলা থেকেই থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই নাটক নিয়ে পড়াশোনার আগ্রহ তৈরি হয়। বড় ভাইয়ের পরামর্শে তিনি নাটক বিষয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হন। এই পথে এগিয়ে যেতে তার বান্ধবী তৃণার সহযোগিতার কথা তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।
সম্প্রতি শুটিং সেটে খাবারের বৈষম্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখা পোস্ট নিয়ে তিনি স্পষ্ট অবস্থান জানান। তার মতে, সেটে সিনিয়র ও জুনিয়র শিল্পীদের মধ্যে খাবার ও পানির ক্ষেত্রেও যে পার্থক্য করা হয়, তা দৃষ্টিকটু। শিল্পী সিনিয়র হোক বা জুনিয়র, সবার সম্মান সমান হওয়া উচিত। প্রকাশ্যে এ ধরনের বৈষম্য শিল্পীদের মর্যাদায় আঘাত করে বলেই তিনি মনে করেন।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক। তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ের অনেক তরুণ শিল্পী মেধাবী এবং তারা ভালো কাজ করছেন। এখন সুযোগ ও প্ল্যাটফর্ম বেশি হওয়ায় তারা দ্রুত সফলতা পাচ্ছেন, যা দেখে তার ভালো লাগে। নতুন প্রজন্মের এই অগ্রযাত্রা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।