এক নার্সের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে নার্সিং পেশার নানা অসংগতি, চ্যালেঞ্জ এবং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এবার সমাজকে কড়া বার্তা দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত. আসন্ন ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ সিনেমায় একজন নার্সের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি. চরিত্রের ভেতরে ঢুকতে গিয়ে এই খাতের নানা অবহেলিত দিক খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তাঁর. এরই প্রেক্ষিতে কঙ্গনা স্পষ্ট জানিয়েছেন, নার্সদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানুষের মনোভাবের এখন আমূল পরিবর্তন আসা উচিত।
সিনেমাটিতে অভিনয় করতে গিয়ে কঙ্গনা কাছ থেকে দেখেছেন একজন নার্সের দৈনন্দিন জীবনের কঠিন লড়াই. বিশেষ করে চিকিৎসকদের তুলনায় নার্সদের পোশাকের স্বাধীনতার অভাব তাঁকে বেশ পীড়িত করেছে. অভিনেত্রীর মতে, চিকিৎসকেরা কাজের ক্ষেত্রে পোশাকে অনেক বেশি স্বাধীনতা পেলেও নার্সদের বেঁধে দেওয়া একটি নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম পরেই দায়িত্ব পালন করতে হয়, যা সব সময় মোটেও আরামদায়ক নয়. ক্ষোভ প্রকাশ করে কঙ্গনা বলেন, আমাদের দেশে এখনও ব্রিটিশ আমলের সেই ‘ড্রেস কোড’ চালু রয়েছে. শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা সব ঋতুতেই নার্সদের সেই একই ধরনের বিদেশি ধাঁচের ইউনিফর্ম পরে থাকতে হয়. যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নার্সদের পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে এই পোশাকে ‘ভারতীয় ছোঁয়া’ আনা উচিত বলে মনে করেন তিনি. নার্সদের এই ইউনিফর্মের সঙ্গে পিন, ক্যাপ বা বেল্ট ব্যবহারের বিষয়টিকে মার্কিন নৌবাহিনীর কাঠামোর সঙ্গে তুলনা করে কঙ্গনা আক্ষেপ করেন যে, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে নার্সদের পরিস্থিতি যেমন ছিল, আজও যেন অনেকটা তেমনই রয়ে গেছে।
তবে কেবল পোশাকই নয়, নার্সিং পেশাকে ঘিরে সমাজের সস্তা ও নোংরা মানসিকতা নিয়েও তীব্র প্রতিবাদ জানান এই অভিনেত্রী. কঙ্গনার দাবি, এই পবিত্র পেশাকে প্রায়ই অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণভাবে ‘যৌনতার’ সঙ্গে যুক্ত করে নানা মন্তব্য করা হয়. তিনি বলেন, মানুষের এই ধরনের নিচু মানসিকতায় পরিবর্তন আসা উচিত. নার্সিং পেশাটিকে সমাজ সবচেয়ে বেশি যৌনতার দৃষ্টিতে দেখে থাকে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক. চিকিৎসা খাতে পর্দার আড়ালে থাকা এই মানুষগুলোর অবদান মনে করিয়ে দিয়ে কঙ্গনা আরও বলেন, হাসপাতালের কথা উঠলেই আমরা শুধু চিকিৎসকদের কথাই ভাবি; কিন্তু তাদের বাইরেও যে লক্ষ লক্ষ কর্মী প্রতিদিন পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাকে সচল রাখছেন, তাদের কাজকে সহজ ও সম্মানজনক করতে আমাদের মানসিকতা বদলাতেই হবে।