পর্দার কোনো চরিত্রের নামে দর্শকরা যখন তাকে ডাকেন, সেটিকে নিজের অভিনয়জীবনের অন্যতম বড় অর্জন মনে করেন অভিনেতা খায়রুল বাসার। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় স্বীকৃতি আর কিছু হতে পারে না। কারণ দর্শক তখন অভিনেতাকে নয়, তাঁর অভিনীত চরিত্রকেই মনে রাখেন। সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় অভিনয়, পুরস্কার, নাটক থেকে সিনেমায় যাত্রা এবং স্বপ্নের চরিত্র নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
খায়রুল বাসার বলেন, দর্শক যখন তাঁকে কোনো চরিত্রের নামে সম্বোধন করেন, তখন তিনি ভীষণ আনন্দ পান। কারণ এতে বোঝা যায় যে দর্শক তাঁর কাজ দেখেছেন এবং চরিত্রটির সঙ্গে সংযোগ অনুভব করেছেন। তাঁর ভাষায়, একজন অভিনেতা হিসেবে এটিই সবচেয়ে বড় তৃপ্তির জায়গা, যেখানে পর্দার চরিত্র বাস্তব জীবনের পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।
পুরস্কার পাওয়া প্রসঙ্গে খায়রুল বাসার বলেন, যেকোনো সম্মাননা একজন শিল্পীর জন্য আনন্দের। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্বীকৃতি ও সম্মান। বিশেষ করে কোনো কাজের জন্য পুরস্কৃত হলে তিনি মনে করেন, সেটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পুরো টিমের গল্প ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি। দর্শকদের ভালোবাসা ও গ্রহণযোগ্যতার কারণেই একটি কাজ সম্মানিত হয় বলে মনে করেন তিনি।
বর্তমান সময়ে ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দায় অভিনেতাদের নিয়মিত যাত্রাকে ইতিবাচকভাবেই দেখেন খায়রুল বাসার। তাঁর মতে, দেশের অধিকাংশ দক্ষ অভিনেতার শেকড় নাটকে। নাটক এমন একটি মাধ্যম, যেখানে শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান এবং নিজেদের অভিনয় দক্ষতাকে আরও শাণিত করতে পারেন। এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে সিনেমায় কাজের ক্ষেত্রে তাদের আরও পরিণত করে তোলে।
তিনি মনে করেন, নাটক একজন অভিনেতার জন্য বড় একটি পাঠশালা। এখানে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার চর্চা করা যায়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসও তৈরি হয়। তাই নাটক থেকে সিনেমায় আসার ধারাটিকে তিনি অভিনয়শিল্পীদের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা হিসেবেই দেখেন।
স্বপ্নের চরিত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে খায়রুল বাসার বলেন, তাঁর কাছে প্রতিটি মানুষই একটি সম্ভাব্য চরিত্র। কারণ প্রত্যেক মানুষের জীবনে আলাদা গল্প, সংগ্রাম, অভিজ্ঞতা ও না বলা অনুভূতি থাকে। তাঁর বিশ্বাস, মানুষের বাস্তব জীবনই সবচেয়ে বড় গল্পের উৎস। তাই নির্দিষ্ট কোনো চরিত্রের চেয়ে মানুষের জীবনের বৈচিত্র্যময় গল্পগুলোই তাঁকে বেশি আকর্ষণ করে।
সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন তিনি। খায়রুল বাসারের মতে, প্রত্যেক শিল্পীর নিজস্ব ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও কাজের ধরন রয়েছে। এই বৈচিত্র্যই অভিনয়কে সমৃদ্ধ করে। তিনি জানান, সবার সঙ্গে কাজ করতে তাঁর ভালো লাগে, তবে নতুন কোনো সহশিল্পীর সঙ্গে কাজের সুযোগ পেলে সেটি তাঁকে আরও বেশি উৎসাহিত করে। কারণ নতুন মানুষের সঙ্গে কাজ করলে নতুন অভিজ্ঞতা ও শেখার সুযোগ তৈরি হয়।
অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা, মানুষের গল্পের প্রতি গভীর আগ্রহ এবং নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের মানসিকতা নিয়েই নিজের পথচলা অব্যাহত রাখতে চান খায়রুল বাসার। তাঁর বিশ্বাস, একজন অভিনেতার প্রকৃত সাফল্য তখনই আসে, যখন দর্শক চরিত্রটিকে মনে রাখে এবং নিজের জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে।