‘আমি জানি না কাল আমি বেঁচে থাকব কি না। জীবনের শেষ প্রান্তে সবাইকে পৌঁছাতেই হবে। কিন্তু তার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত যা করতে চেয়েছিলাম, তা কি করতে পেরেছি?’ মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে এক জনসভায় জীবন ও মৃত্যুর নশ্বরতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই আবেগঘন মন্তব্যটি করেছিলেন ভারতের কালজয়ী ও বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো; ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোকে পাড়ি জমালেন এই গুণী অভিনেতা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে গোয়ার বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা চালান, কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর চার দিন আগে, গত ৪ অক্টোবর গোয়ার ডোনা পাউলায় ‘সম্রাট ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল’-এর একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন নানা পাটেকর। সেখানে দেওয়া তাঁর শেষ বক্তব্য ও জীবনদর্শন এখন ভক্তদের মাঝে ভারী করে তুলছে শোকের আবহ।

সেই অনুষ্ঠানে নিজের সামাজিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার জগত যদি কেবল স্ত্রী, সন্তান আর পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে এই জীবনের অর্থ কী? সমাজকে কিছু তো ফেরত দিয়ে যেতে হবে!’ বক্তব্যে রাজনৈতিক সহনশীলতার বার্তা দিয়ে প্রকাশ্য সৌজন্যবোধের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেছিলেন, অপছন্দের কিছু থাকলে তা অবশ্যই প্রতিবাদ করা উচিত, তবে সেই প্রতিবাদের ভাষাও হওয়া চাই মার্জিত ও শালীন। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গন ও সাধারণ ভক্তদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।