ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে আগেই পরিচিতি পেয়েছেন নীহারিকা এনএম। এবার বলিউডে অভিষেক হয়েছে তাঁর। মুক্তি পেয়েছে প্রথম হিন্দি সিনেমা ‘ভাই তেরা স্টার হ্যায়’। এতে রাঘব জুয়ালের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমাটি মুক্তির আগে অভিনয়জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের কথা জানিয়েছেন নীহারিকা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নীহারিকা জানান, অভিনয়জীবনের শুরুতে বিভিন্ন কারণে একাধিকবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন তিনি। তবে একটি ঘটনা এখনো ভুলতে পারেননি। অভিনেত্রীর ভাষ্য, একটি সিনেমার জন্য খ্যাতনামা এক পরিচালক তাঁকে পছন্দ করেছিলেন। অডিশন ও লুক টেস্টও হয়েছিল। এরপর তাঁর বাড়িতে চুক্তিপত্র পাঠানো হয় এবং তাতে স্বাক্ষরও করেন তিনি।
তবে চুক্তিতে একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের শর্ত ছিল। শুরুতেই নির্মাতাদের নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন নীহারিকা। তিনি জানান, পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। নির্মাতারা ওই দৃশ্যে বডি ডাবল ব্যবহারে রাজি হলেও সিনেমার নায়ক তাতে সম্মতি দেননি।
এরপর শর্ত মেনে নেওয়া অথবা সিনেমা ছেড়ে দেওয়ার মধ্যে একটি পথ বেছে নিতে হয় নীহারিকাকে। শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন তিনি। ফলে সিনেমাটিও হাতছাড়া হয়ে যায়। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই অভিনেত্রীর। তাঁর মতে, কোনো শিল্পী কোন দৃশ্যে অভিনয় করবেন বা করবেন না, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত।
মুম্বাইয়ে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সংগ্রামের কথাও জানিয়েছেন নীহারিকা। তিন-চার বছর আগে সেখানে গিয়ে কার্তিক সুব্বারাজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্টোন বেঞ্চ ফিল্মসের সঙ্গে তিন বছরের প্রশিক্ষণ চুক্তি করেছিলেন তিনি। ওই চুক্তির কারণে অন্য কোনো কাজে যুক্ত হতে পারেননি। এমনকি দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি সিনেমার প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিতে হয়েছিল তাঁকে।
পরে সেই সিনেমাগুলো সফল হওয়ায় আক্ষেপ হয়েছিল নীহারিকার। তিনি বলেন, “চুক্তির কারণে করতে পারিনি। পরে যখন দেখলাম ছেড়ে দেওয়া ছবিগুলো দারুণ সফল হয়েছে, তখন খুব খারাপ লেগেছিল।”
বলিউডে কাজ খোঁজার অভিজ্ঞতাও সুখকর ছিল না বলে জানান অভিনেত্রী। তাঁর মতে, হিন্দি সিনেমায় অভিনেত্রীদের চেহারা, গায়ের রং ও সৌন্দর্য নিয়ে এখনো কিছু ধরাবাঁধা ধারণা রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে একসময় তাঁর মনে হয়েছিল, বলিউড এমন জায়গা নয়, যেখানে তাঁর প্রতিযোগিতা করা উচিত।
তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুনভাবে পথচলা শুরু করেন নীহারিকা। এরপর বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ২০২৩ সালে মার্কিন অ্যানিমেটেড সিটকম ‘বিগ মাউথ’-এর সপ্তম মৌসুমে অতিথি কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও কাজ করেন। বড় পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু হয় তামিল সিনেমা ‘পেরুসু’ দিয়ে। এরপর ‘মিত্রা মণ্ডলী’ ও ‘ইধয়ম মুরলি’তে অভিনয় করেন তিনি।
দক্ষিণি সিনেমার পর এবার ‘ভাই তেরা স্টার হ্যায়’ দিয়ে বলিউডে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন নীহারিকা। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকেই এগিয়ে যেতে চান তিনি। অভিনেত্রীর ভাষায়, “চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর কেউ আমাকে থামাতে পারেনি। এরপর বিভিন্ন ভাষার ছবিতে কাজ করেছি। সেই পথচলাই আমাকে আজ এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে।”