৯০ এবং ২০০০-এর দশকের শিশুদের কাছে বিকালের টিভি দেখার আনন্দ মানেই ছিল কার্টুন নেটওয়ার্ক বা হাংগামা টিভিতে ভেসে ওঠা সেই চেনা সুর ‘হাল্লা বোলে, হা হা হা! নিনজা হাতোড়ি আ গ্যায়া!’ পকেট থেকে জাদুকরী সব গ্যাজেট বের করা ডোরায়েমন কিংবা দূরন্ত বেন ১০-এর পাশাপাশি যেই চরিত্রটি ছোটদের সবচেয়ে বেশি আপন করে নিয়েছিল, তা হলো মুখাবয়বে লাল গালে গোলাকার দাগ আর মাথায় কালো স্কার্ফ পরা ছোট্ট নিনজা ‘নিনজা হাতোড়ি’ (Ninja Hattori)।
সেই নস্টালজিক আমেজ আর নিনজা ট্রিকসের রোমাঞ্চ এবার দেশের দর্শকদের সামনে সহজ ভাষায় উপভোগ করার দারুণ সুযোগ করে দিচ্ছে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো। আগামী আজ বুধবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শিশুদের অন্যতম প্রিয় এই অ্যানিমেটেড কার্টুন সিরিজটি সম্প্রচারিত হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় স্যাটেলাইট চ্যানেল মাছরাঙা টেলিভিশন-এর পর্দায়।
জাপানি মাঙ্গা সিরিজ থেকে অ্যানিমেটেড কার্টুনে রূপান্তরিত হওয়া এই শোর গল্পটি অত্যন্ত সহজ-সরল হলেও এর প্রতিটি পর্বে লুকিয়ে থাকত বন্ধুত্ব, দায়িত্ববোধ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার বার্তা।
হাতোড়ি ও তার বন্ধুদের কালজয়ী রসায়ন
হাতোড়ি কাঞ্জো (Hattori Kanzo): ইগা নগা ফ্যামিলির ১১ বছর বয়সী এক চতুর ও দক্ষ নিনজা। নিজের নিনজা ট্রিকস ব্যবহার করে সে প্রতিনিয়ত সবাইকে রক্ষা করে। তার সরলতা এবং ব্যাঙের প্রতি অতিরিক্ত ভয় দর্শকদের দারুণ আনন্দ দিত।
কেনইচি মিৎসুবা (Kenichi Mitsuba): অলস, পড়াশোনায় দুর্বল কিন্তু সৎ মনের এক বালক। হাতোড়ি তার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই মূলত কেনইচির জীবনে ঘটে যাওয়া নানা সমস্যা সামলাতে হাতোড়ি এগিয়ে আসে।
শিনজো ও শিসিমানু (Shinzo & Shishimaru): হাতোড়ির ছোট ভাই শিনজো (যার কান্নার আওয়াজে দেয়াল ফেটে যেত) এবং তাদের নিনজা কুকুর ‘শিসিমানু’, যে চকোলেট রোল খেতে ভীষণ ভালোবাসত এই দুজন ছিল শোর মূল কমিক রিলিফ।
আমারা ও কেগেচিও (Amara & Kagechiyo): প্রতিপক্ষ কোগা নিনজা স্কুল থেকে আসা আমারা এবং তার পোষা বিড়াল কেগেচিও সব সময় কেনইচি ও হাতোড়িকে বিপদে ফেলার ফন্দি আঁটত, যদিও দিনশেষে নিজেদের ফান্দেই নিজেরা পড়ত!
কেন আজও মনে পড়ে ‘নিনজা হাতোড়ি’?
‘নিনজা হাতোড়ি’ শুধুমাত্র ফ্যান্টাসি বা মারামারির কার্টুন ছিল না। প্রতিটি পর্বের শেষে কেনইচিকে নিজের কাজ নিজে করতে শেখানো, বড়দের সম্মান করা এবং বন্ধুদের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিত হাতোড়ি। দেয়ালে তর তর করে বেয়ে ওঠা, জলের ওপর দিয়ে দৌড়ানো কিংবা কাপড়ের আড়ালে গায়েব হয়ে যাওয়ার মতো অভিনব নিনজা টেকনিকগুলো শিশু মনে দারুণ শিহরণ জাগাত।
আজকালকার হাই-টেক অ্যানিমেশনের যুগেও নিনজা হাতোড়ির সেই ডায়লগ ‘ডিং ডিং ডিং!’ শোনামাত্রই এক নিমেষেই ফিরে যাওয়া যায় শৈশবের সেই অবুঝ ও নিষ্পাপ বিকেলের দিনগুলোতে। তাই নতুন প্রজন্ম কিংবা পুরনো নস্টালজিয়ায় ডুব দিতে আজই বিকেল ৪:৩০ মিনিটে চোখ রাখুন মাছরাঙা টেলিভিশনে!