বলিউডের প্রতিযোগিতার ময়দান এখন আর শুধু সিনেমা হলের বড় পর্দায় সীমাবদ্ধ নেই। সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগতে ট্রোল বাহিনী, ভুয়া অ্যাকাউন্ট এবং পেইড প্রচারণার মাধ্যমে তারকা ও তাঁদের সিনেমার ক্যারিয়ার ধসিয়ে দেওয়ার এক অন্ধকার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ভারতের দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বলিউডের এই ‘পেইড ট্রোলিং’ ও অদৃশ্য যুদ্ধের চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনো তারকাকে কোণঠাসা করা বা নির্দিষ্ট ছবিকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অনলাইন রেপুটেশন ম্যানেজমেন্ট (ওআরএম) এজেন্সির মাধ্যমে পরিকল্পিত প্রচারণা চালানো হয়। অভিনেতা কার্তিক আরিয়ানকে ঘিরে ভুয়া সম্পর্ক ছড়ানো থেকে শুরু করে অভিনেতা-নির্মাতা অংশুমান ঝার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ‘পেইড মাস রিপোর্টিং’ চালিয়ে কার্যক্রম সীমিত করে দেওয়ার মতো অভিযোগও এতে উঠে এসেছে। এমনকি কৃতি শ্যাননের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রকে কেন্দ্র করে এমন আক্রমণ চালানো হয় যে শেষ পর্যন্ত সেটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
এই অনৈতিক ট্রোলিং কেবল পেশাগত জীবনেই প্রভাব ফেলে না, বরং শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবনেও তৈরি করে চরম মানসিক চাপ। অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা বোস জানান, তিনি ও তাঁর সঙ্গী ব্যক্তিগত ইনবক্সে তীব্র আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ২০২৫ সালে অভিষেক বচ্চনও এমন পেইড পিআর আক্রমণের মুখোমুখি হয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার কথা জানান। সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমের সুযোগ নিয়ে সত্য প্রতিষ্ঠার আগেই ক্ষতিকর ধারণা তৈরি করাই এই ভুয়া ট্রোলিং ইন্ডাস্ট্রির মূল লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।