ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইতে আদালতে হাজির হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন তিনি।

পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) জানান, বুধবার আদালত তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করবেন পরীমণি।

এর আগে বুধবার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে না পারায় পরীমণির পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হয়। তবে বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন এবং পরীমণির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

২০২৪ সালে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানানো হয়। আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে ২০২৪ সালের ২৫ জুন পরীমণি ও জিম আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

২০২১ সালের ৬ জুলাই বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। এজাহারে তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের বোট ক্লাবে পরীমণি ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে অভিনেত্রী তাঁর দিকে সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে তিনি মাথা ও বুকে আঘাত পান। এ ছাড়া মারধর, হত্যার হুমকি ও ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগও করেন তিনি।

মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি এবং কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি। একই ঘটনায় পরীমণিও নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছিলেন।