নির্মাতা প্রিয়দর্শন তার আসন্ন সিনেমা ‘হাইওয়ান’-এর জন্য আবারও অক্ষয় কুমারের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন। সিনেমাটিতে অভিনয় করছেন সাইফ আলি খানও। তবে প্রিয়দর্শন ও অক্ষয়ের পরিচিত কমেডি ঘরানার বাইরে গিয়ে তৈরি হচ্ছে এই সিনেমা। বিশেষ করে অক্ষয়কে এবার দেখা যাবে সাইকো চরিত্রে, যা তার ক্যারিয়ারে একেবারেই ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা।
ভিন্ন ঘরানায় অক্ষয়কে নিয়ে কাজ করার প্রসঙ্গে প্রিয়দর্শন বলেন, একই ধরনের সিনেমা বারবার করা উচিত নয়। তার মতে, ‘প্যাডম্যান’ ও ‘রুস্তম’-এর মতো সিনেমা প্রমাণ করে অক্ষয় কুমার শুধু কমেডি নয়, ভিন্ন ধরনের চরিত্রেও নিজেকে সফলভাবে উপস্থাপন করতে পারেন। ‘হাইওয়ান’-এ অক্ষয়কে নেওয়ার পরিকল্পনা শুরুতে তার ছিল না বলেও জানান পরিচালক। তবে অক্ষয় নিজেই তাকে এই চরিত্রে অভিনয়ের আগ্রহের কথা জানান। অক্ষয় বলেছিলেন, তিনি আগে কখনো সাইকোর চরিত্রে অভিনয় করেননি। প্রথমে বিষয়টিকে মজা হিসেবে নিলেও পরে অক্ষয়ের কথায় প্রিয়দর্শন বুঝতে পারেন, অভিনেতা সত্যিই চরিত্রটি করতে আগ্রহী।
‘হাইওয়ান’-এ অক্ষয় ও সাইফ আলি খানকে একই পর্দায় পাওয়া দর্শকদের জন্য বড় আকর্ষণ হতে পারে। প্রিয়দর্শনের মতে, বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতাদের মধ্যে এমন সমন্বয় তৈরি করা তুলনামূলক কঠিন। অতীতে অক্ষয় কুমার ও গোবিন্দা, অজয় দেবগন ও অক্ষয় খান্নার মতো জুটির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, সেসময় অভিনেতাদের মধ্যে অহংকারের সমস্যা তেমন ছিল না। প্রত্যেকেই জানতেন তাদের চরিত্রের গুরুত্ব কোথায় এবং অন্য অভিনেতা কী করছেন, তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত ছিলেন না।
নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের প্রসঙ্গে প্রিয়দর্শন বলেন, তারা অনেক বেশি অনিরাপদ বোধ করেন। অন্য অভিনেতা কী করছেন, সেটি নিয়ে তাদের আগ্রহ বেশি থাকে, অথচ নিজেদের চরিত্র ও অভিনয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
‘হাইওয়ান’ প্রিয়দর্শন ও অক্ষয় কুমারের একসঙ্গে করা নবম সিনেমা। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের পেছনে পারস্পরিক বিশ্বাসকেই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন পরিচালক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অক্ষয় কখনো তাকে প্রশ্ন করেন না। শুটিং সেটে এসে শুধু জানতে চান, ‘আপনি আমাকে কী করতে চান?’ এরপর পরিচালকের নির্দেশ অনুযায়ী অভিনয় করেন। অক্ষয়ের এই আস্থা তাকে আরও দায়িত্বশীল করে তোলে বলেও জানান প্রিয়দর্শন।
কমেডি সিনেমার নির্মাতা হিসেবে নিজের যে পরিচিতি তৈরি হয়েছে, ‘হাইওয়ান’-এর মাধ্যমে সেই ইমেজের বাইরে যেতে চান প্রিয়দর্শন। তিনি জানান, ১৯৯৭ সালে ‘ভিরাসত’-এর মতো সিরিয়াস সিনেমা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর ২০০০ সালে ‘হেরা ফেরি’ নির্মাণের পর তার সঙ্গে কমেডি ঘরানার পরিচয় আরও দৃঢ় হয়ে যায়। তবে দক্ষিণ ভারতে তিনি একইসঙ্গে সিরিয়াস সিনেমাও নির্মাণ করেছেন। তাই এবারও ভিন্ন ধরনের কিছু করার ইচ্ছা থেকেই ‘হাইওয়ান’ নির্মাণ করেছেন।
তবে ‘হাইওয়ান’কে পুরোপুরি ডার্ক সিনেমা হিসেবে দেখতে চান না প্রিয়দর্শন। সিনেমাটিতে দর্শকদের হাসানোর মতো বেশ কিছু মুহূর্তও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে এটি আবেগঘন একটি সিনেমা বলেও উল্লেখ করেছেন পরিচালক। বরাবরের মতো পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে দেখতে পারবেন, এমন সিনেমাই বানাতে চেয়েছেন তিনি। তাই ‘হাইওয়ান’ও পরিবারসহ উপভোগ করার মতো সিনেমা হবে বলে আশা করছেন প্রিয়দর্শন।