ঢালিউডের সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী পূজা চেরির ক্যারিয়ারে গত কয়েক বছর ছিল বেশ নড়বড়ে। শিশুশিল্পী হিসেবে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা এবং ‘পোড়ামন ২’ বা ‘দহন’-এর মতো ব্লকবাস্টার দিয়ে নায়িকা হিসেবে অভিষেক হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর অভিনীত ‘জ্বীন’, ‘সাইকো’, ‘শান’ কিংবা ‘হৃদিতা’র মতো সিনেমাগুলো বক্স অফিসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু থেকে ক্রমশ আড়ালে চলে যাচ্ছিলেন এই গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী। তবে ২০২৬-এর ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া ‘দম’ সিনেমাটি পূজার ক্যারিয়ারে যেন এক নতুন ভোরের সূচনা করেছে।
পরিণত অভিনয়ের ঝলক রেদওয়ান রনি পরিচালিত এই সিনেমায় আফরান নিশোর বিপরীতে ‘রানী’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচক, উভয় মহলের প্রশংসা কুড়াচ্ছেন পূজা। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, আগের সিনেমাগুলোতে গ্ল্যামার প্রাধান্য পেলেও ‘দম’-এ পূজা নিজেকে একজন জাত অভিনেত্রী হিসেবে প্রমাণ করেছেন। চরিত্রের আবেগ, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এবং জীবন সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায় তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন। দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার গ্লানি মুছে এই একটি সিনেমাই পূজাকে আবারও ঢালিউডের শীর্ষ দৌড়ে ফিরিয়ে এনেছে।
অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন সম্ভাবনা ২০২২ সালে শাকিব খানের বিপরীতে ‘গলুই’ সিনেমার পর পূজার ক্যারিয়ারে যে স্থবিরতা নেমে এসেছিল, তা কাটিয়ে উঠতে ‘দম’ ছিল তাঁর জন্য ‘এসিড টেস্ট’। কাজাখস্তানের হাড়কাঁপানো শীতে খালি পায়ে শুটিং করার মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে পূজা প্রমাণ করেছেন তিনি কেবল পর্দার পুতুল নন, বরং একজন লড়াকু শিল্পী। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পূজা যদি এখন থেকে চিত্রনাট্য নির্বাচনে আরও সচেতন হন এবং ‘দম’-এর মতো শক্তিশালী গল্প বেছে নিতে পারেন, তবে ঢালিউডে তাঁর হারানো সিংহাসন ফিরে পাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার।