রিলস ও শর্টসের যুগে দর্শকদের মনোযোগের ধরন বদলে যাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে মাইক্রো-ড্রামা। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া এমনই একটি সিরিজ Silver Sadia দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আর এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা Sadia Ayman নিজেও এই সাফল্যে বিস্মিত।

সাদিয়া আয়মান বলেন, সিরিজটি নিয়ে এত বড় সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা তার ছিল না। কারণ এটি প্রচলিত প্রেমের গল্পভিত্তিক কোনো নাটক নয়। বরং ভিন্নধর্মী গল্প ও চরিত্রই দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এর পরবর্তী সিজনের দাবি জানাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

চরিত্রের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি

সিরিজটিতে সাদিয়া অভিনয় করেছেন একজন মাদ্রাসাপড়ুয়া শান্ত স্বভাবের মেয়ের চরিত্রে, যার আরেকটি গোপন পরিচয় রয়েছে একজন দক্ষ গেমার হিসেবে। এই দ্বৈত সত্তার চরিত্র ফুটিয়ে তোলা ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

মজার বিষয় হলো, বাস্তব জীবনে কখনোই গেম খেলেননি সাদিয়া। চরিত্রের প্রয়োজনে তাকে গেমিং সংস্কৃতি, ভাষা এবং আচরণ সম্পর্কে জানতে হয়েছে। নিয়মিত গেম স্ট্রিমিং দেখা থেকে শুরু করে বিভিন্ন টেকনিক্যাল বিষয় শেখার মধ্য দিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি।

অভিনেত্রীর মতে, নির্মাতা Miraz Hossain-এর নির্দেশনা এবং পুরো টিমের সহযোগিতা চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অনেক অচেনা প্রতিভার প্রতিচ্ছবি

সাদিয়া মনে করেন, সিরিজের চরিত্রটি শুধু একজন গেমারের গল্প নয়। এটি এমন অসংখ্য তরুণ-তরুণীর প্রতিচ্ছবি, যাদের প্রতিভা থাকলেও সুযোগ বা সাহসের অভাবে তা প্রকাশ্যে আসে না।

তার ভাষায়, অনেকেই ব্যক্তিগত পরিসরের বাইরে নিজেদের মেধা তুলে ধরতে পারেন না। ফলে তারা নিজেদের প্রতিভা নিয়েই সীমাবদ্ধ হয়ে থাকেন। চরিত্রটি করতে গিয়ে তিনি এমন বহু মেয়ের কথা ভেবেছেন, যারা নিজেদের স্বপ্ন ও প্রতিভা নীরবে লালন করেন।

সৌন্দর্যের চেয়ে অভিনয়ের মূল্যায়নই বড়

অভিনয় নিয়ে নিজের দর্শনও তুলে ধরেছেন সাদিয়া আয়মান। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীর প্রকৃত পরিচয় তার অভিনয়ে, বাহ্যিক সৌন্দর্যে নয়।

অভিনেত্রীর মতে, কেউ তার অভিনয়ের প্রশংসা করলে সেটি তাকে বেশি অনুপ্রাণিত করে। কারণ দর্শকদের কাছে একজন অভিনেত্রীর সবচেয়ে বড় অর্জন হওয়া উচিত তার কাজের স্বীকৃতি।

তিনি মনে করেন, ‘সিলভার সাদিয়া’র মতো পরীক্ষাধর্মী কাজে তাকে নির্বাচন করা হয়েছে বলেই বোঝা যায় নির্মাতারা একজন অভিনেত্রী হিসেবে তার সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখছেন।

সংগ্রাম পেরিয়ে আজকের অবস্থান

২০১৯ সালে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করলেও শুরুটা সহজ ছিল না সাদিয়ার জন্য। পরিবারের পক্ষ থেকে শুরুতে পুরোপুরি সমর্থন পাননি তিনি। মিডিয়ায় কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারকে আশ্বস্ত করতে হয়েছে অনেকবার।

সাদিয়া জানান, তিনি সবসময় চেয়েছেন এমনভাবে কাজ করতে, যাতে তার পরিবার গর্ববোধ করতে পারে। সময়ের সঙ্গে সেই স্বপ্ন বাস্তবেও রূপ নিয়েছে।

এখন অনেকেই তার পরিচয়ের সূত্রে তার মা-বাবাকে চিনে ফেলেন। মানুষের ভালোবাসা ও প্রশংসা পরিবারকে আনন্দ দেয় বলেও জানান এই অভিনেত্রী।