বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান ও তাঁর প্রথম স্ত্রী অমৃতা সিং একসময় ছিলেন ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে আলোচিত জুটি। তাঁদের প্রেম, বিয়ে ও পারিবারিক জীবন আজও দর্শক–ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। বয়সের ব্যবধান, ধর্মীয় ভিন্নতা এবং সন্তানদের পরিচয় ঘিরে নানা আলোচনা তাঁদের সম্পর্ককে আরও বেশি আলোচনায় এনেছে।

পাতৌদি পরিবারের রাজকীয় উত্তরাধিকারী সাইফ আলী খান যেমন ঐতিহ্যের প্রতিনিধি, তেমনি অমৃতা সিংয়ের পারিবারিক পরিচয়ও ছিল বৈচিত্র্যময়। তাঁর মা মুসলিম এবং বাবা শিখ। বয়সে ১২ বছরের পার্থক্য ও আলাদা ধর্মীয় পরিচয় থাকা সত্ত্বেও প্রেমই তাঁদের একত্র করেছিল।

এক রাতের ডিনারেই সম্পর্কের শুরু

রাহুল রাওয়াইলের একটি সিনেমার সেটে প্রথম দেখা হয় সাইফ ও অমৃতার। সাইফ প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ হন এবং অমৃতাকে ডিনারের আমন্ত্রণ জানান। শুরুতে অমৃতা কিছুটা সংযত থাকলেও সেই ডিনারই তাঁদের সম্পর্কের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এক সাক্ষাৎকারে সাইফ জানিয়েছিলেন, ডিনারের শেষেই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং সেই রাতের পর তিনি কার্যত অমৃতার বাড়িতেই থাকতে শুরু করেন। তাঁর মা বিষয়টি জানতেন, তবে তখন বিয়ের পক্ষে ছিলেন না। তবু কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁরা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।

দ্রুত বিয়ে ও নাম পরিবর্তন

ডিজাইনার আবু জানি ও সন্দ্বীপ খোশলা জানিয়েছেন, বন্ধুর একটি অ্যাপার্টমেন্টে তড়িঘড়ি করেই তাঁদের বিয়ে হয়। সেখানে কাজি ও শিখ পণ্ডিত দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের সময় অমৃতার নাম রাখা হয় আজিজা। আয়োজনটি ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু সম্পন্ন হয়েছিল সুন্দরভাবে।
আবু জানি ও সন্দ্বীপের ভাষায়, সাইফ ও অমৃতা তখন প্রবলভাবে প্রেমে ছিলেন। কিছু দ্বিধা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই হয়।

ধর্ম নিয়ে কোনো চাপ ছিল না

সাইফ স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি কখনোই অমৃতাকে নিজের ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করেননি। তাঁদের সংসারে নীতি ছিল, প্রত্যেকে নিজের ধর্ম নিজের মতো করে পালন করবে। একই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সন্তানদের ক্ষেত্রেও।
তিনি জানান, অমৃতা যখন গুরুদুয়ারায় যেতেন, তখন তিনি সারা ও ইব্রাহিমের দেখাশোনা করতেন। ধর্ম তাঁদের সম্পর্কে কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

বিচ্ছেদের পরও সন্তানের কথা

বিচ্ছেদের সময় সন্তানদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে তিনি কিছুটা চিন্তিত ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন সাইফ। তবে অমৃতার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, সন্তানদের ধর্মীয় বিষয়ে অমৃতা কখনো ভুল প্রভাব ফেলবেন না।
এই সময়ই সাইফের জীবনে আসে নতুন অধ্যায়। কারিনা কাপুরকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও তিনি স্পষ্ট করেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রভাবিত করবে না।

সারা আলী খানের অনুভূতি

টাইমস নাউ সামিটে সারা আলী খান একবার বলেন, ছোটবেলায় নিজের পরিচয় নিয়ে তিনি বিভ্রান্ত ছিলেন। বিদেশে ভ্রমণের সময় পরিবারের বিভিন্ন নাম ও পরিচয় দেখে তাঁর মনে প্রশ্ন জাগত, “আমি আসলে কে?”
মায়ের কাছে জানতে চাইলে অমৃতা সিং তাঁকে একটি সহজ উত্তর দিয়েছিলেন, “তুমি ভারতীয়।”
এই উত্তরই ধীরে ধীরে সারার পরিচয়ের প্রশ্নের সমাধান হয়ে ওঠে।