ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্বল্প সময়ের উপস্থিতি দিয়েই চিরস্থায়ী আসন গেড়ে নেওয়া এক ক্ষণজন্মা তারার নাম সালমান শাহ। সত্তরের দশকে জন্ম নেওয়া এই রাজপুত্র ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে রূপালী পর্দায় পা রাখেন। মাত্র তিন-চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দেওয়া এই নায়ককে সিনেমা বিশ্লেষকরা বিনোদন জগতের এক অনন্য ‘টাইম ট্রাভেলার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকেন। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিনে ভক্তরা পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই স্বপ্নের নায়ককে। 

প্রতিবেদনে জানানো হয়, নব্বইয়ের দশকেই সালমান শাহ তাঁর পোশাকে, চুলে ও ব্যক্তিত্বে যে আধুনিকতার ছোঁয়া নিয়ে এসেছিলেন, তা তৎকালীন সময়ের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। মাথায় রঙিন ব্যান্ডানা, সানগ্লাস, স্টাইলিশ হেয়ারকাট কিংবা বাইক নিয়ে পর্দায় তাঁর উপস্থিতি তরুণদের মধ্যে এক নতুন ফ্যাশন ধারার জন্ম দিয়েছিল। তাঁর এই অগ্রগামী স্টাইল পরবর্তী সময়ে ঢাকাই সিনেমা ছাড়াও বলিউডের বড় বড় তারকাদের ফ্যাশনে দেখতে পাওয়া যায়। নিজের ভবিষ্যৎমুখী ফ্যাশন দিয়ে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিকে যেন তিনি তিন দশক আগেই প্রভাবিত করে গেছেন।

‘তুমি আমার’, ‘সুজন সখি’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘এই ঘর এই সংসার’ কিংবা ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো অজস্র সুপারহিট চলচ্চিত্রের এই মহানায়ক ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে অকালে বিদায় নেন। তবে তাঁর এই শারীরিক বিদায় তাঁর দ্যুতিকে বিন্দুমাত্র মলিন করতে পারেনি। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও আজও ঢাকাই চলচ্চিত্রের নবাগতদের কাছে সালমান শাহ এক অমলিন অনুপ্রেরণা ও ভালোবাসার নাম।