বলিউড অভিনেতা শাহিদ কাপুর অভিনীত নতুন সিনেমা ‘ককটেল ২’ নিয়ে এই মুহূর্তে রূপালি পর্দায় ও দর্শক মহলে ব্যাপক উন্মাদনা চলছে। মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচক—উভয় পক্ষের তুমুল প্রশংসায় ভাসছে ছবিটি। দীর্ঘদিন ধরেই শাহিদ-কৃতি-রাশমিকা অনুরাগীরা এই ছবিটির জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন। অবশেষে গত ১৯ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই বক্স অফিসে রীতিমতো রাজত্ব করছে এটি।
ছবিটিতে শাহিদ কাপুরের পাশাপাশি প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন দুই প্রজন্মের জনপ্রিয় নায়িকা কৃতি শ্যানন ও রাশমিকা মান্দানা। মুক্তির প্রথম দিনেই দুর্দান্ত ওপেনিং দিয়ে বক্স অফিসে খাতা খোলে ছবিটি। ওপেনিং ডে-তেই এর ঝুলিতে আসে ১৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি। ওপেনিং উইকেন্ড পার হওয়ার পরেও ছবিটির ব্যবসায়িক সাফল্যে বা দর্শক উপস্থিতিতে কোনো ভাটা পড়েনি, বরং এটি বেশ স্থিতিশীল রয়েছে।
সম্প্রতি সামনে এসেছে ছবিটির মুক্তির ষষ্ঠ দিন অর্থাৎ বুধবারের বক্স অফিস রিপোর্ট। ভারতীয় বক্স অফিস ট্র্যাকিং পোর্টাল ‘স্যাকনিল্ক’ (Sacnilk)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ষষ্ঠ দিনে এসেও ছবিটি ভারতের বাজার থেকে ৫.০০ কোটি রুপি আয় করেছে। আর তাতেই মুক্তির মাত্র ৬ দিনে ভারতের বাজারে ছবিটির মোট নেট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬৬.০০ কোটি রুপি।
বক্স অফিসে টিকে থাকার এই লড়াই অবশ্য ‘ককটেল ২’-এর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। একই সময়ে একাধিক বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি পাওয়ায় তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয়েছে ছবিটিকে। বক্স অফিসে এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে বরুণ ধাওয়ানের ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’, রাম চরণ ও জাহ্নবী কাপুর অভিনীত ‘পেড্ডি’, ববি দেওলের ‘বান্দর’, কঙ্গনা রানাওয়াতের ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’, দিলজিৎ দোসাঞ্জের ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’ এবং হরর ঘরানার ‘হন্টেড থ্রিডি: ইকোজ অফ দ্য পাস্ট’-এর মতো একঝাঁক আলোচিত ও বড় ফ্র্যাঞ্চাইজির সিনেমার সঙ্গে। তবে এত সব ছবির ভিড়েও নিজের শক্ত অবস্থান ধরে রেখে বক্স অফিসে একচ্ছত্র দাপট দেখাচ্ছেন শাহিদ কাপুর।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত হোমি আদাজানিয়া পরিচালিত ব্লকবাস্টার রোম্যান্টিক-কমেডি ছবি ‘ককটেল’-এর সিক্যুয়েল বা দ্বিতীয় পর্ব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এই ‘ককটেল ২’-কে। মূল ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সাইফ আলি খান, দীপিকা পাড়ুকোন, ডায়ানা পেন্টি, ডিম্পল কাপাডিয়া, বোমান ইরানি ও রণদীপ হুডা। সে সময় সাইফ-দীপিকা-ডায়ানার ত্রিকোণ প্রেমের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল এবং ছবিটি বক্স অফিসে দারুণ সফল হওয়ার পাশাপাশি চার্টবাস্টার সব গান উপহার দিয়েছিল। এক যুগ পর শাহিদ-কৃতি-রাশমিকার এই নতুন ট্রায়ো মূল ছবির সেই সফলতার ধারা কতদূর নিয়ে যেতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।