বলিউডের ‘বাদশাহ’ হিসেবে পরিচিত শাহরুখ খান পর্দার রোমান্স থেকে শুরু করে বাস্তব জীবনের রসবোধ—সবকিছুতেই অনন্য। তবে এই আকাশচুম্বী সাফল্যের পেছনে যে হাড়ভাঙা খাটুনি আর শারীরিক কষ্ট লুকিয়ে আছে, তা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রবীণ অভিনেতা গোবিন্দ নমদেব শাহরুখের সেই অমানুষিক পরিশ্রম ও জীবনযাপন নিয়ে মুখ খুলেছেন। ২০০০ সালে ‘ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি’ সিনেমায় একসাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, শাহরুখের শরীরে দীর্ঘদিনের শিরদাঁড়ার সমস্যাসহ নানাবিধ জটিলতা রয়েছে। অথচ শরীরে এত সমস্যা থাকার পরও একজন মানুষ কীভাবে দিনে ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন, তা ভেবে গোবিন্দ নমদেব বিস্মিত হন। তার মতে, শারীরিক কষ্টকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ২৪ ঘণ্টা কাজ করার ক্ষমতা যদি কারও থাকে, তবে তা শুধু শাহরুখেরই আছে।

শাহরুখের জীবনযাপনও সাধারণ আটপৌরে রুটিনের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। স্বয়ং কিং খান এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি প্রতিদিন ভোর ৫টায় ঘুমাতে যান এবং শুটিং থাকলে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা ঘুমিয়েই সকাল ৯টা বা ১০টার মধ্যে সেটে হাজির হন। কাজ থেকে ফিরে গোসল সেরে তিনি আবারও শরীরচর্চায় মনোযোগ দেন। সহ-অভিনেতা গোবিন্দ নমদেবের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শাহরুখ নিজের শরীরের চেয়ে কাজকে সব সময় বেশি প্রাধান্য দেন। শুটিং সেটে তার এই প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং নিয়ম করে সংলাপ মুখস্থ ও শরীরচর্চা করার অভ্যাস নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্য এক বড় শিক্ষা। মূলত চরম প্রতিকূলতাকে জয় করার এই অদম্য মানসিকতাই তাকে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে রাজ সিংহাসনে বসিয়ে রেখেছে।