গত বছর ‘আঁখো কি গুস্তাখিয়াঁ’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছিল শানায়া কাপুরের। তারকা পরিবারে জন্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগে থেকেই জনপ্রিয় হওয়ায় তাকে নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। তবে মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে সাড়া ফেলতে ব্যর্থ হয় এবং শানায়ার অভিনয় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে যে তীব্র সমালোচনা ও ট্রল হয়, তা ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত।
তবে প্রথম ছবির ব্যর্থতা ও সমালোচনাকে জয় করতে ভিন্ন পথে হেঁটেছেন শানায়া। তার দ্বিতীয় ছবি ‘তু ইয়া ম্যাঁয়’ একটি অ্যাডভেঞ্চারধর্মী রোমান্টিক থ্রিলার, যেখানে তার চরিত্রটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিজয় নাম্বিয়ারের পরিচালনায় এই ছবিতে তার সহশিল্পী হিসেবে আছেন আদর্শ গৌরব। ১৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়া ছবিটি ব্যবসায়িক দিক থেকে খুব বড় সফল না হলেও, শানায়ার অভিনয় এবার সমালোচকদের নজর কেড়েছে।
‘চাপ নয়, এটি আমার দায়িত্ব’
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের শুরু এবং তারকা-সন্তান হওয়ার সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন শানায়া। স্টারকিড হওয়ার কারণে বাড়তি চাপের বিষয়ে তিনি বলেন:“আমি একে ‘চাপ’ বলতে চাই না, এটা আমার কাছে এক ধরনের ‘দায়িত্ব’। দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করাই আমার মূল লক্ষ্য। আর সেই জায়গা তৈরি করতে হলে আমাকে কাজ দিয়েই নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।”
অনেকেই মনে করেন পরিচিত পরিবারে জন্ম বলে সবকিছু সহজে পাওয়া যায়। এই প্রসঙ্গে শানায়ার স্পষ্ট বক্তব্য, সুযোগ তৈরি হলেও ক্যামেরার সামনে পারফর্ম করার লড়াইটা তাকে একাই লড়তে হয়।
ট্রল ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ে শানায়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক মন্তব্যগুলো এড়িয়ে যান না শানায়া। তিনি স্বীকার করেন যে তিনি কমেন্ট পড়েন এবং অভিনয় নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা থেকে শেখার চেষ্টা করেন। তবে চেহারা বা শারীরিক গঠন নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ তাকে ব্যথিত করে। শানায়া বলেন, “আমি খুব রোগা, এ ধরনের মন্তব্যের কোনো উত্তর হয় না। সমালোচনা থাকবেই, কিন্তু তার একটা সীমা থাকা উচিত।”মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার মুহূর্তে পরিবারই শানায়ার প্রধান শক্তি। বিশেষ করে মা মহীপ কাপুর তাকে বাস্তবতা বুঝতে এবং সাহস জোগাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন বলে জানান তিনি।
বক্স অফিসের লড়াই ও আগামীর ভাবনা
বক্স অফিসে শানায়ার ‘তু ইয়া ম্যাঁয়’ ছবিটিকে কঠিন প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয়েছে শহীদ কাপুর ও তৃপ্তি দিমরি অভিনীত ‘ও’রোমিও’র সাথে। বড় তারকাদের ভিড়েও সমালোচকেরা শানায়ার নতুন ছবির পারফরম্যান্সকে ‘আত্মবিশ্বাসী ও সংযত’ বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে আবেগপ্রবণ দৃশ্য ও অ্যাকশন অংশে তার পরিশ্রমের ছাপ স্পষ্ট।একই ধরনের চরিত্রে আটকে না থেকে শানায়া ভবিষ্যতে ভিন্ন ভিন্ন ঘরানায় কাজ করতে আগ্রহী। দ্রুত জনপ্রিয়তার চেয়ে ধীরে ধীরে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চান তিনি। জাহ্নবী কাপুর বা অনন্যা পান্ডেদের মতো তিনিও একই পথ ধরে হাঁটছেন, তবে তার লড়াইটা তিনি নিজের মতো করেই লড়তে চান।
বক্স অফিসের হিসাব এখনই শানায়ার পক্ষে না থাকলেও, তার শেখার মানসিকতা এবং হার না মানার জেদ বলিউডে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।