জেমস ক্যামেরনের আসন্ন ছবি ‘অবতার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’–এর প্রচারণায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হন এস.এস. রাজামৌলি। কথোপকথনে তিনি জানান, ভারত থেকে তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি অবতার ৩ দেখেছেন। অভিজ্ঞতাটি তাঁর কাছে ছিল ব্যতিক্রমী এবং আবেগঘন।
ভারতীয় দর্শকের প্রতিনিধি হিসেবে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য ক্যামেরনকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাজামৌলি বলেন, “১.৪৫ বিলিয়ন মানুষের দেশ থেকে সম্ভবত আমিই প্রথম বা একমাত্র ব্যক্তি যে ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ দেখার সুযোগ পেয়েছি। অনুভূতিটা সত্যিই বিশেষ।”
ছবিটি দেখে তাঁর প্রতিক্রিয়া আরও উচ্ছ্বসিত। রাজামৌলি বলেন, “ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ দেখা ছিল এক পরম তৃপ্তি। এত জটিল ভিজ্যুয়াল, বিস্তৃত দৃশ্যপট আর চরিত্র নির্মাণ সব কিছুর জন্য টুপি খোলা অভিনন্দন। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা এ নিয়ে কথা বলতে পারি। প্রেক্ষাগৃহে বসে ‘উইন্ড ট্রেডার্স’, ‘অ্যাশ পিপল’ আর নতুন চরিত্রগুলো দেখার সময় আমি একেবারে শিশুর মতো হয়ে গিয়েছিলাম। ভারাং চরিত্রটি ছিল সত্যিই চমকপ্রদ।”
তবে ছবির ভিজ্যুয়ালের চেয়েও তাঁকে বেশি নাড়া দিয়েছে জ্যাক সুলির ভেতরের দ্বন্দ্ব। তাঁর কথায়, “প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরোনোর পরও বিষয়টা মাথায় ঘুরছিল। জ্যাকের নৈতিক সংকট আমাকে সবচেয়ে বেশি টেনেছে। প্রথম অবতার-এ এটি খুব শক্তিশালী ছিল। ভেবেছিলাম, এর চেয়ে বেশি আর কী করা যাবে? কিন্তু এই ছবিতে সেটি আরও গভীর ও তীব্র হয়েছে।”
সংঘাতের দিকেও ইঙ্গিত দেন রাজামৌলি। তাঁর মতে, ছবিতে দুটি বড় দ্বন্দ্ব দর্শকের মনে দাগ কাটবে মাইলস কোয়ারিচ বনাম জ্যাক সুলি, এবং নেইতিরি বনাম ভারাং। তিনি বলেন, “প্রথম ছবিতে আমি মাইলসকে স্পষ্টভাবে ঘৃণা করতাম। কিন্তু ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ-এ তাকে ঘৃণা করতে চেয়েও পারছি না, আবার ভালোবাসতেও পারছি না। জ্যাক ও মাইলসের সংলাপগুলো অসাধারণভাবে লেখা ভেতরে জমে থাকা কষ্ট আর ক্ষোভ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।”
রাজামৌলির এই প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয়, অবতার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ শুধু ভিজ্যুয়াল spectacle নয় এটি চরিত্র, দ্বন্দ্ব আর আবেগের দিক থেকেও সিরিজটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চলেছে।