নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছেন কে-পপ তারকা ও স্ট্রে কিডস সদস্য লি নো। জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সহায়তার জন্য ১০ কোটি কোরিয়ান ওন, যা প্রায় ৭২ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, অনুদান দিয়েছেন তিনি। ২৮ আগস্ট ওয়ার্ল্ড ভিশনের মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়া হয়।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের জীবিকা পুনর্গঠনে অনুদানের অর্থ ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছেন লি নো। তার সংস্থা জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্টের মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আশা প্রকাশ করেন, কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষদের জন্য তার এই সহায়তা সামান্য হলেও স্বস্তি ও শক্তি জোগাবে।

লি নো আরও বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং মাঠপর্যায়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত সবাই যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সেটিই তার প্রত্যাশা।

ওয়ার্ল্ড ভিশন জানিয়েছে, লি নোর অনুদানের অর্থ বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর জরুরি সহায়তায় ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে তাদের খাবার, অস্থায়ী আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি এবং মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দাতব্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত লি নো। ২০১৪ সাল থেকে ওয়ার্ল্ড ভিশনের মাধ্যমে শিশুদের সহায়তা করে আসছেন তিনি। ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটির মাধ্যমে ১০ কোটি কোরিয়ান ওন অনুদান দিয়েছিলেন এই তারকা। এছাড়া গত বছর নিজের জন্মদিনেও দুটি আলাদা ১০ কোটি কোরিয়ান ওনের অনুদান দেন তিনি। এর একটি সিউলের স্যামসাং মেডিকেল সেন্টারে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সহায়তায় এবং অন্যটি বিড়াল উদ্ধারকারী সংগঠন নাবিয়া সারাংহায়ে পরিত্যক্ত বিড়ালের চিকিৎসা ও যত্নের জন্য দেওয়া হয়।

এদিকে, ব্যস্ত সময় পার করছে লি নোর দল স্ট্রে কিডস। ৭ আগস্ট গ্রুপটি ‘দিস অ্যান্ড দ্যাট’ নামে একটি ইপি প্রকাশ করে, যা বিলবোর্ড ২০০-এর শীর্ষে জায়গা করে নেয়। পাশাপাশি ‘রান ইট’ বিশ্ব সফর নিয়েও ব্যস্ত রয়েছে দলটি। ২৫ জুলাই সিউলের কেএসপিও ডোমে এই সফর শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের বিভিন্ন এলাকায় হাজারো পরিবার জরুরি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার পরিবারের তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন এবং উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নেপালের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বন্যার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। ভোতেকোশি নদীর পানির উচ্চতা বাড়ার পর বাসিন্দাদের মোবাইলে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। পাশাপাশি নুওয়াকোট ও রাসুওয়া জেলায় আকস্মিক বন্যার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।