কোরিয়ান রিভেঞ্জ ড্রামায় বারবার দেখা একই ধরনের গল্পও যে সঠিক চরিত্র নির্মাণ আর আবেগের গভীরতায় নতুন হয়ে উঠতে পারে, তা আবারও প্রমাণ করল নেটফ্লিক্সের নতুন কে-ড্রামা ‘এজেন্ট কিম রিঅ্যাকটিভেটেড’। ১০ পর্বের এই অ্যাকশন-থ্রিলার সিরিজে স্রেফ মারামারি আর প্রতিশোধের বাইরে মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে মেয়েকে বাঁচাতে মরিয়া এক বাবার আবেগঘন লড়াই।

গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কিম দো-হিয়ন (সো জি–সুপ) যিনি সাধারণের চোখে একজন শান্ত, ভদ্র ব্যাংক ব্যবস্থাপক ও একাকী বাবা। কিন্তু এই সাধারণ চেহারার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর অতীত। দেশের অন্যতম শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ছিলেন তিনি। প্রয়াত স্ত্রীর কাছে ওয়াদা করে সেই অন্ধকার জগতকে বিদায় জানালেও, স্কুলে হয়রানির শিকার কিশোরী মেয়ে মিন-জি (সো সু-মিন) এক অপরাধী চক্রের হাতে অপহৃত হলে আবার পুরানো রূপে ফিরতে বাধ্য হন তিনি।

মেয়েকে উদ্ধারের এই মরিয়া অভিযানে কিম দো-হিয়নের সঙ্গে যোগ দেন তাঁর দুই সাবেক সহযোদ্ধা সিয়ং হান-সু (চোই দে-হুন) ও পার্ক জিন-চল (ইউন কিয়ং-হো)। দ্রুত ও কৌশলী হান-সু এবং শক্তিধর জিন-চলকে নিয়ে গড়ে ওঠে এক বৈচিত্র্যময় দল। তাঁদের প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে আসে ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী জু কাং-চান (জু সাং-উক) এবং উত্তর কোরিয়ার এজেন্ট কাং সিয়ং (কিম সিয়ং-গিউ)।

টেলিভিশনে ফিরে সো জি–সুপ একাই যেন ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ হিসেবে নজর কেড়েছেন। তবে সিরিজটিতে একসঙ্গে স্কুলের বুলিং, করপোরেট রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা আনার কারণে শুরুতে গল্প কিছুটা বিশৃঙ্খল এবং শেষের দিকে কিছুটা তাড়াহুড়ো মনে হতে পারে। তা সত্ত্বেও, ‘টেকেন’ বা ‘নোবডি’ টাইপের থ্রিলার পছন্দ করা দর্শকদের কাছে বাবা-মেয়ের এই অ্যাকশন-ড্রামা বেশ উপভোগ্য হবে।