নীল রঙের রেশমি শাড়ি, কপালে উঁচু করে দেওয়া লাল টিপ, কানে দুল, গলায় নেকলেস। চুলের খোঁপা থেকে উঁকি দিচ্ছে রঙিন ফুল, আর মুখজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে প্রশান্ত হাসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা কয়েকটি ছবিতে এমনই লুকে ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। তার এই সাজপোশাক ঘিরে ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে আলোচনা।

সাজগোজের চেনা ধারণা ভাঙতে স্বস্তিকা বরাবরই স্বচ্ছন্দ। এবার বোলপুরে এক বন্ধুর বিয়েতে যোগ দিতে এমন সাজে সেজেছিলেন তিনি। তবে এই সাজের পেছনে ছিল না কোনো বিলাসিতা; বরং জড়িয়ে আছে স্মৃতির মায়া, মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা আর নিজের উপলব্ধি।

এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে স্বস্তিকা জানান, বন্ধুর বিয়েতে যাওয়ার জন্য সাজগোজ করতেই হয়। আমলি থেকে টোটো নিয়ে যখন বিয়েবাড়ির পথে, তখন পছন্দের ফুল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। টোটোচালককে জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেন, বাজারে যেতে হবে, যা বেশ দূরে এবং উল্টো পথে। তখন বন্ধুকে ডান দিকে খুঁজতে বলে তিনি নিজে বাঁ দিকে চোখ রাখেন, ফুলগাছ দেখলেই নেমে পড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বোলপুরে পৌঁছে স্বস্তিকা জানতে পারেন, সেখানকার আদিবাসী মেয়েরা মাথায় এক ধরনের বিশেষ ফুল ব্যবহার করেন, যার রং পলাশের মতো হলেও সেটি পলাশ নয়। কথার মধ্যেই হঠাৎ চোখে পড়ে এক দেওয়ালজুড়ে সূর্যের আলোর মতো রঙের ফুল থোকা থোকা হয়ে ঝুলছে। সঙ্গে সঙ্গে টোটো থামিয়ে ফুল পেড়ে ব্যাগে রাখা কাঁটা দিয়ে খোঁপায় গুঁজে নেন তিনি। গন্তব্যে পৌঁছে টোটোর আয়নায় দেখে নেন ফুল ঠিক আছে কি না, তারপর আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিয়েবাড়িতে ঢোকেন। নরম, আদুরে সেই ফুলগুলো এতটাই কোমল ছিল যে ছোঁয়া লাগলেই ঝরে পড়ছিল। হোটেলে ফিরে সযত্নে খুলে বিছানার পাশে রেখে দেন তিনি।

মায়ের কথা বলতে গিয়ে স্বস্তিকা আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, সিল্কের শাড়ি পরে আঁচল গায়ে দিলে তার মায়ের কথা খুব মনে পড়ে। তার মা মাথায় ফুল দিয়ে, ঘাড়ের কাছে আলতো খোঁপা বেঁধে, কপালে বড় টিপ পরতেন। সেই রূপটাই যেন নিজের মধ্যে খুঁজে পান তিনি। মাকে অনুসরণ করেই চলছেন, আর চলবেন বলেও জানান অভিনেত্রী। বোনের স্বীকৃতি পেলেই তার ইচ্ছেপূরণ হয়ে যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফুলের সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথাও জানান স্বস্তিকা। পরিবারের সদস্যদের তিনি বলে রেখেছেন, তার অন্তিম বিদায়ের সময় যেন ফুল দিয়েই তাকে বিদায় জানানো হয়। তার ভাষায়, ফুল তার নিত্যদিনের সঙ্গী, তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই নিবিড়।

স্বস্তিকার বিশ্বাস, যত্ন নিলে সবকিছুই টিকে থাকে। তিনি বলেন, যে শাড়িটি তিনি পরেছিলেন, তার বয়স তার মেয়ের থেকেও বেশি প্রায় ২৭ বছর। পার্ক স্ট্রিটের একটি দোকান থেকে তার মা কিনে দিয়েছিলেন সেই শাড়ি। যত্ন করে রাখলে যেমন শাড়ি টিকে থাকে, তেমনই জীবনও টিকে থাকে এমনটাই মনে করেন অভিনেত্রী।