প্রথমবার ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে (Cape Verde)। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী স্পেনের সঙ্গে ড্র করে এবং গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার (Vozinha) দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে এখন ফুটবল বিশ্বে অন্যতম আলোচিত নাম মাত্র ছয় লাখ জনসংখ্যার এই দেশটি। ফুটবল মাঠের এই চমকের পর এবার বিশ্বজুড়ে সিনেমা প্রেমীদের মাঝেও দারুণ কৌতুহল তৈরি হয়েছে কেপ ভার্দের চলচ্চিত্র নিয়ে। দেশটির ফুটবল বিপ্লবের এই আবহে দেখে নিতে পারেন আন্তর্জাতিকভাবে সাড়াজাগানো কেপ ভার্দের ৫টি সিনেমা:

১. অশ ফ্লাগেলাদশ দু ভেনতু লেশতি (Os Flagelados do Vento Leste - 1995) ম্যানুয়েল লোপেজের (Manuel Lopes) বিখ্যাত মূল উপন্যাস থেকে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি কেপ ভার্দের সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ইতালীয় নব্য বাস্তবতার (Italian Neorealism) ধারায় নির্মিত এই আফ্রিকান সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র হোসে দা ক্রুজ, যিনি সান্তো আন্তাঁও দ্বীপের একজন সাধারণ কৃষক। দীর্ঘ খরা যখন পুরো দ্বীপটিকে বিপর্যস্ত করে তোলে, তখন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের মুখে মানুষের টিকে থাকার লড়াই এবং আত্মমর্যাদার গল্পই এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

২. দ্য আইল্যান্ড অব কনটেন্ডা (O Ilhéu de Contenda - 1996) পরিচালক লিয়াও লোপেজ (Leão Lopes) এই সিনেমায় ১৯৬৪ সালের কেপ ভার্দের সমাজ ও সংস্কৃতির এক দারুণ রূপান্তর তুলে ধরেছেন। এক বিশাল আগ্নেয়গিরির পাদদেশে দাঁড়িয়ে থাকা দেশটির ঐতিহ্যবাহী সমাজব্যবস্থা কীভাবে বদলে যাচ্ছে এবং পুরোনো অভিজাত শ্রেণির প্রভাব ভেঙে বাণিজ্যনির্ভর এক নতুন শ্রেণির উত্থান হচ্ছে, এটিই সিনেমার মূল উপজীব্য। আফ্রিকান ও পর্তুগিজ সংস্কৃতির মিশেলে কেপ ভার্দের নাগরিকদের নিজেদের পরিচয় খোঁজার গল্প এটি।

৩. ফিনতার ও ডেসটিনো (Fintar o Destino - 1998) পর্তুগিজ নির্মাতা ফেরনান্দু ভেনদ্রেলের (Fernando Vendrell) পরিচালনায় এই সিনেমার গল্পটি ফুটবলপ্রেমীদের মন ছুঁয়ে যাবে। সিনেমার মূল চরিত্র ৫০ বছর বয়সী ‘মানে’, যিনি একসময় জনপ্রিয় গোলরক্ষক ছিলেন। এখন একটি পানশালা চালানোর পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের ফুটবল কোচিং করান। নিজের হাতছাড়া হওয়া পর্তুগালের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে খেলার স্বপ্ন তিনি বুনতে চান তাঁর মেধাবী ছাত্র কাল্লুর মাঝে। কাল্লুর ভবিষ্যতের দরজা খুলতে এবং বেনফিকার একটি ম্যাচ দেখতে লিসবনে গিয়ে মানে কীভাবে নিজের অতীত ও অপূর্ণ স্বপ্নের মুখোমুখি হন, তা নিয়েই এই সিনেমা।

৪. বাতুকে, দ্য সোল অব আ পিপল (Batuque, l'âme d'un peuple - 2006) পরিচালক জুলিও সিলভা তাভারেসের (Julio Silva Tavares) এই চমৎকার ডকুমেন্টারি বা তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে কেপ ভার্দের মানুষের আদি সংস্কৃতির কথা। ১৪৬২ সালে পর্তুগিজদের হাত ধরে আসা আফ্রিকান দাসদের বিশেষ সংগীত ও নৃত্যরীতি ‘বাতুকে’ (Batuque) যা ঔপনিবেশিক আমলে দমন করা হয়েছিল কীভাবে পরবর্তীতে কেপ ভার্দের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রধান প্রতীক হয়ে উঠল, তা নিখুঁতভাবে দেখানো হয়েছে এই মিউজিক্যাল ও কালচারাল তথ্যচিত্রে।

৫. হানামি (Hanami - 2024) এক প্রত্যন্ত রহস্যময় আগ্নেয় দ্বীপে জন্ম নেওয়া ‘নানা’ নামের এক কিশোরীর মানবিক সম্পর্কের গল্প নিয়ে এই সিনেমাটি বানিয়েছেন ডেনিস ফার্নান্দেজ (Denise Fernandes)। সুইজারল্যান্ড, পর্তুগাল ও কেপ ভার্দের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই সিনেমাটি ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে এবং বিখ্যাত লোকার্নো চলচ্চিত্র উৎসব (Locarno Film Festival) থেকে ‘সেরা ইমার্জিং ডিরেক্টর’ (Best Emerging Director) পুরস্কার লুফে নেয়।