যশ অভিনীত ‘টক্সিক: অ্যা ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’ বুধবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। সিনেমাটি ঘিরে যশভক্তদের মধ্যে ছিল ব্যাপক প্রত্যাশা। তবে গীতু মোহনদাস পরিচালিত সিনেমাটি মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচকদের একাংশের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে ২০২১ সালে দেওয়া পরিচালকের একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার, যা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

‘টক্সিক’-এর গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখায় যশের সঙ্গে সহ-লেখক হিসেবে কাজ করেছেন গীতু মোহনদাস। ২০২১ সালে ফিল্ম কম্প্যানিয়নের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের লেখার ধরন নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি। সিনেমাটি নিয়ে সমালোচনার পর সেই বক্তব্যই এখন সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে।

গীতু মোহনদাস কী বলেছিলেন?

সাক্ষাৎকারে নিজের লেখার প্রক্রিয়াকে বেশ এলোমেলো বলে বর্ণনা করেছিলেন গীতু। তিনি জানিয়েছিলেন, একটি গল্প লিখতে গিয়ে শুরুতেই তিনি সবসময় জানেন না গল্পটি ঠিক কোথায় যাবে।

তার ভাষায়, একাধিক ব্যক্তি মিলে চিত্রনাট্য লিখলে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নিজের লেখার ধরন সম্পর্কে গীতু বলেছিলেন, তার প্রক্রিয়াটি ‘পাগলাটে’ ও ‘এলোমেলো’ এবং পরে সেটিকে গুছিয়ে নেন তিনি। তার ক্ষেত্রে শুরু, মধ্যভাগ ও শেষ আগে থেকে নির্দিষ্ট করে চিত্রনাট্য লেখার পদ্ধতি কাজ করে না।

শুটিংয়ের সময়ও দৃশ্য বা সংলাপে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছিলেন পরিচালক। তিনি আরও বলেছিলেন, তিনি যা লেখেন, শেষ পর্যন্ত ঠিক সেটিই শুট বা এডিট করেন না।

‘টক্সিক’ নিয়েও সেই সাক্ষাৎকারে কথা বলেছিলেন গীতু। সিনেমাটিকে তিনি ‘নারীর দৃষ্টিভঙ্গিতে নির্মিত একটি গ্যাংস্টার ড্রামা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। নিজের লেখার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, প্রথমবারের মতো এই সিনেমায় তার সঙ্গে একটি লেখক দল কাজ করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একটি বিষয় লিখতে পারেন, পরে অন্য কিছু শুট করতে পারেন এবং সম্পাদনার সময় সেটি আরও বদলে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত যে সিনেমাটি তৈরি হয়, সেটিই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

পুরোনো বক্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে ট্রোল

‘টক্সিক’ মুক্তির পর সামাজিক মাধ্যমে সিনেমাটি নিয়ে ট্রোল ও মিম ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যেই গীতুর পুরোনো সাক্ষাৎকার সামনে আসায় তার লেখার পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

এক্সের এক ব্যবহারকারী সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কেভিএন প্রোডাকশনসকে ট্যাগ করে লিখেছেন, তাদের গীতুর পুরোনো বক্তব্যটি সতর্কবার্তা হিসেবে নেওয়া উচিত ছিল।

অন্য একজন সিনেমাটিকে ব্যঙ্গ করে ‘টক্সিক: দ্য টর্চার’ এবং ‘পরিচালকের সংস্করণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। আরেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, সিনেমাটিতে স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির অভাব পর্দায়ও ফুটে উঠেছে।

তবে গীতুর সমর্থনেও অনেকে কথা বলেছেন। তাদের যুক্তি, অনেক পরিচালকই চিত্রনাট্য লেখার পর শুটিং ও সম্পাদনার সময় পরিবর্তন করেন। এক্সের এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, অনেক নির্মাতা পুরোপুরি চিত্রনাট্য অনুসরণ না করেও সফলভাবে সিনেমা তৈরি করেন।

আরেকজনের মতে, কাগজে লেখা চিত্রনাট্য পর্দায় হুবহু তুলে ধরা সবসময় সম্ভব নয়। সিনেমার সেটে কাজ করা ব্যক্তিরাই বিষয়টির বাস্তবতা সবচেয়ে ভালো বোঝেন।

প্রথম দিনেই ১০০ কোটি পার

বিতর্ক ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেও বক্স অফিসে শক্তিশালী সূচনা করেছে ‘টক্সিক’। মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি ভারতে ১০০ কোটি রুপির বেশি নেট আয় করেছে। বিশ্বব্যাপী প্রথম দিনের সংগ্রহ ১৪০ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে।

‘টক্সিক’-এ যশের সঙ্গে অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্ত। সিনেমাটি পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রনাট্য লেখাতেও যুক্ত ছিলেন গীতু মোহনদাস ও যশ।