একাকী জীবন, শৈশবের পারিবারিক নির্যাতন এবং ক্যারিয়ারের জন্য ব্যক্তিগত জীবনের অগণিত ত্যাগ সব বাধা পেরিয়ে সাত দশক ধরে রূপালী পর্দায় রাজত্ব করছেন ভারতীয় টেলিভিশনের জনপ্রিয় জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী উষা নাডকার্নি। ‘পবিত্র রিশতা’ ধারাবাহিকের জন্য সর্বাধিক জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের করুণ ও অনুপ্রেরণাদায়ক ইতিহাস শেয়ার করেছেন। ভাইব নিউজ-এর এই প্রতিবেদনে থাকছে তাঁর সেই সংগ্রামের কথা।
৮০ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানান, তাঁর শৈশব মোটেও রঙিন ছিল না। তাঁর বাবা ছিলেন একজন বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা, যিনি অত্যন্ত হিংস্র ও ক্রোধী মেজাজের মানুষ ছিলেন। সামান্য কারণেই সন্তানদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালাতেন তিনি। একবার ভাইকে বাঁচাত গিয়ে বাবার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন উষা। কিন্তু শারীরিক যন্ত্রণা ও ভয়কে জয় করে পরদিনই তিনি মঞ্চে অভিনয় করতে নেমেছিলেন।
শুধু শৈশবের নির্যাতনই নয়, অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথটিও তাঁর জন্য সহজ ছিল না। মধ্যবিত্ত পরিবারের সামাজিক সম্মানের কথা চিন্তা করে তাঁর মা প্রথমদিকে অভিনয়ে ঘোর আপত্তি জানান এবং তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেন। প্রায় এক সপ্তাহ বন্ধুর বাড়িতে থাকার পর পরিবারে ফিরে এলেও নিজের স্বপ্ন থেকে একচুলও সরে আসেননি তিনি।
ক্যারিয়ারে সফল হলেও ব্যক্তিগত জীবনে অনেক বড় মূল্য চোকাতে হয়েছে এই গুণী শিল্পীকে। পেশাগত ব্যস্ততার কারণে একমাত্র সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেননি তিনি; বড় করেছেন তাঁর নানী। যার ফলে ছেলের সঙ্গে তৈরি হয় এক ধরণের মানসিকভাবে দূরত্ব। এছাড়া ১৯৮৭ সাল থেকে মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাটে একাই বসবাস করছেন তিনি। তবে জীবনের এত বাধা, একা থাকার ভয় কিংবা বার্ধক্যের শঙ্কা কোনোকিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি তাঁকে। আজও একই আবেগ ও নিষ্ঠা নিয়ে অভিনয় করে যাচ্ছেন উষা নাডকার্নি।