দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভী-এর স্ত্রী আফরা ইবনাথ খান ইকরার মৃত্যুর খবরে বিনোদন অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে নানামুখী আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে পারিবারিক অশান্তি ও আলভীর এক সহশিল্পীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়।

মৃত্যুর আগের দিন স্বামী-স্ত্রীর করা কয়েকটি ফেসবুক পোস্ট নিয়েও নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনার ঝড় ওঠে। শুক্রবার রাত ৩টা ১৩ মিনিটে আলভী একটি স্ট্যাটাস দেন“ ভুল করলে মাফ মিলে, কিন্তু মুক্তি মেলেনা।” কয়েক ঘণ্টা পর ইকরা নিজের প্রোফাইলে একটি ইংরেজি স্ট্যাটাসে পরোক্ষভাবে তীব্র মানসিক আঘাতের ইঙ্গিত দেন। পোস্টগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত খুঁজছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথি। বেশ কিছুদিন ধরেই আলভীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার গুঞ্জন চলছিল। মৃত্যুর আগের দিন তিথির জন্মদিনে আলভীর শেয়ার করা একটি ছবি ও শুভেচ্ছাবার্তা নিয়ে সমালোচনা আরও বাড়ে। ছবিতে দুজনকে ঘনিষ্ঠ ভঙ্গিতে দেখা যায় এবং ক্যাপশনে আলভী তিথিকে ‘পরিশ্রমী কো-আর্টিস্ট’ ও ‘পছন্দের’ বলে উল্লেখ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট কারও পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে নেপাল থেকে এক আবেগঘন পোস্ট দেন জাহের আলভী। তিনি জানান, কেন ইকরা এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা তিনি জানেন না। একমাত্র সন্তানের কথা ভেবে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। গণমাধ্যম ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তিনি সময় চেয়েছেন এবং সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে মিরপুরের পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগতভাবে বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।