বিয়ের আগে লিভ-ইন সম্পর্কে (বিয়ে ছাড়া একসঙ্গে থাকা) থাকার পরামর্শ দিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন বলিউডের প্রবীণ অভিনেত্রী জিনাত আমান। সেই বক্তব্যের জেরে সায়রা বানুসহ অনেকের সমালোচনার মুখে পড়লেও নিজের অবস্থান থেকে এখনো সরে আসেননি তিনি। এবার আরও জোর দিয়ে তিনি বলেছেন, বিয়ের মতো আইনি সম্পর্কে জড়ানোর আগে দুজনের মানসিকতা, আবেগ ও জীবনযাপনে মিল আছে কি না, তা যাচাই করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

সম্প্রতি ভারতীয় অভিনেত্রী ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব শুভ্রা আইয়াপ্পার সঙ্গে এক আলাপচারিতায় জিনাত জানান, বর্তমান সময়ে লিভ-ইন সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, “এখনকার সময়ে, এমনকি অতীতেও, কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। আইনি সম্পর্কে জড়ানোর আগে দুজন মানুষের মানসিক ও অনুভূতির দিক থেকে কতটা মিল আছে, তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। যদি সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে তাকে কীভাবে বড় করবেন? অর্থনৈতিক বিষয়ে দুজনের দৃষ্টিভঙ্গি কী? যদি কোনো সামঞ্জস্যই না থাকে, তাহলে সেই সম্পর্কে থাকার মানে কী? ১৫ বছর অসুখী থাকার চেয়ে ৫ বছর আনন্দে থাকা কি ভালো নয়? আমি অন্তত তা–ই মনে করি।”   

সম্পর্ক নিয়ে মানুষের অতিরিক্ত রোমান্টিক বা কাল্পনিক প্রত্যাশারও সমালোচনা করেন জিনাত। তাঁর মতে, অনেকে মনে করেন প্রেমের রোমাঞ্চ চিরকাল থাকবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। সম্পর্ক সব সময় মানিয়ে নেওয়া, ছাড় দেওয়া ও আপসের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হয়। হানিমুন পর্ব সারা জীবন থাকবে—এমনটা ভাবা বাস্তবসম্মত নয়।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে জিনাত আমান লিখেছিলেন, দুই পরিবার ও রাষ্ট্রকে সম্পর্কের অংশীদার করার আগে নিজেদের সম্পর্ককে বাস্তব জীবনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নেওয়া উচিত। তিনি জানান, কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজের সেরা রূপটি দেখানো সহজ, কিন্তু প্রতিদিন একই বাথরুম ভাগ করে নেওয়া, খারাপ মেজাজ সামলানো কিংবা প্রতিদিনের ছোটখাটো দ্বন্দ্ব সামলানোই বলে দেয় দুজন মানুষ একে অপরের সঙ্গে আদতে মাননসই কি না। এই একই পরামর্শ তিনি তাঁর দুই ছেলেকেও দিয়েছেন।

তবে জিনাত আমানের এই পরামর্শের কড়া সমালোচনা করেছিলেন অভিনেত্রী সায়রা বানু। তিনি দাবি করেন, সামাজিক মূল্যবোধের বিপরীতে গিয়ে ‘কুল আন্টি’ সেজে জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা করছেন জিনাত। সায়রা বানু আরও উল্লেখ করেন, জিনাত নিজেই তাঁর প্রয়াত স্বামী মাজহার খানকে বহু বছর চেনার পর বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। তাই সম্পর্ক নিয়ে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে জিনাত শেষ ব্যক্তি হওয়া উচিত। তবে সব সমালোচনাকে পাশে ঠেলে জিনাত আমান তাঁর দেওয়া পরামর্শে আজও অনড়।