ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে নতুন রেকর্ড গড়েছে বিশ্বখ্যাত কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। স্তাদে দ্য ফ্রান্স স্টেডিয়ামে আয়োজিত দুই দিনের কনসার্টে প্রায় ৯২ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন, যা ব্যান্ডটির ইতিহাসে অন্যতম বড় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শুক্রবার ও শনিবার অনুষ্ঠিত এই কনসার্ট ঘিরে শহরজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিশেষ এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এবং তাঁর স্ত্রী ব্রিজিত মাখোঁ। কনসার্টে তাঁদের বিটিএসের অফিসিয়াল লাইটস্টিক হাতে দেখা যায়। পরে মাখোঁ নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে কনসার্টের একটি ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, ‘প্যারিসে স্বাগতম’, যা ভক্তদের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলে।
‘আরিরাং’ বিশ্ব সফরের ইউরোপ পর্বের শেষ গন্তব্য ছিল প্যারিস। মার্চে একই নামের অ্যালবাম প্রকাশের পর বিশ্ব সফর শুরু করে বিটিএস। ২০১৯ সালের পর এই প্রথমবারের মতো প্যারিসে কনসার্ট করল জনপ্রিয় দক্ষিণ কোরীয় ব্যান্ডটি। দীর্ঘ সাত বছর পর প্রিয় ব্যান্ডকে সরাসরি দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ভক্তরা।
কনসার্ট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই স্টেডিয়ামের আশপাশে জড়ো হতে শুরু করেন হাজারো ভক্ত। বিটিএসের স্বাক্ষর রঙের পোশাক, ব্যাগ এবং বিভিন্ন অনুষঙ্গ নিয়ে তাঁরা অপেক্ষা করেন। অনেক ভক্ত নিজেদের তৈরি ব্রেসলেট, কি-রিং ও স্মারকসামগ্রী একে অপরের মধ্যে বিনিময় করেন, যা পুরো আয়োজনকে আরও উৎসবমুখর করে তোলে।
অনুষ্ঠান শুরু হয় ‘হুলিগান’ গান দিয়ে। এরপর একে একে পরিবেশিত হয় ‘নট টুডে’, ‘আইডল’, ‘বাটার’ এবং ‘ডায়নামাইট’-এর মতো জনপ্রিয় গান। পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে ভক্তদের উচ্ছ্বাস, সমবেত কণ্ঠে গান গাওয়া এবং লাইটস্টিকের ঝলক কনসার্টকে এক অনন্য আবহ এনে দেয়।
বিটিএসের এই কনসার্টে শুধু তরুণ প্রজন্মই নয়, বিভিন্ন বয়সী ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি ৫০ বছরের বেশি বয়সী দর্শকরাও প্রিয় ব্যান্ডের গান উপভোগ করতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন।
কনসার্ট শেষে বিটিএসের সদস্যরা ফরাসি ও কোরিয়ান ভাষায় দর্শকদের ধন্যবাদ জানান। জিমিন বলেন, এটি তাদের ব্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর্শক উপস্থিত থাকা কনসার্ট। আরএম ফরাসি ভাষায় প্যারিসের দর্শকদের প্রশংসা করেন। জে-হোপ বলেন, প্যারিস হলো বিশ্বের সেরা আর্মিদের শহর। অন্যদিকে সুগা ২০১৯ সালের কনসার্টের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, এবারের আয়োজন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বড় ও আরও বেশি স্মরণীয়।
বিটিএসের এই আয়োজন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোরও নজর কেড়েছে। ফরাসি দৈনিক Le Monde তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, দীর্ঘ বিরতির পরও বিটিএস আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী ও জনপ্রিয় হয়ে ফিরে এসেছে।
প্যারিস পর্ব শেষ করে এখন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে বিটিএস। জানা গেছে, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালের হাফটাইম শোতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বিশ্বখ্যাত এই কে-পপ ব্যান্ডের।