দেব ও শুভশ্রী গাঙ্গুলীর জুটি আবারও বড় পর্দায় ফিরছে। দীর্ঘ বিরতির পর ‘দেশু ৭’ সিনেমায় তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাবে, এমন খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কলকাতার সিনেমাপাড়ায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। তবে তাঁদের প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাজ চক্রবর্তী ও মিমি চক্রবর্তীর পেশাগত পুনর্মিলন।

শুভশ্রীর স্বামী পরিচালক-প্রযোজক রাজ চক্রবর্তী দীর্ঘ ১১ বছর পর তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকা মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে নতুন একটি প্রজেক্টে কাজ করতে যাচ্ছেন। তবে এবার রাজ পরিচালকের আসনে থাকছেন না। মিমিকে নিয়ে নির্মিতব্য নতুন প্রজেক্টে তিনি থাকবেন প্রযোজকের ভূমিকায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি ফাইভের একটি বিশেষ প্রজেক্টে রাজ চক্রবর্তীর প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে কাজ করবেন মিমি। সারভাইভাল থ্রিলারধর্মী এই প্রজেক্টের গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে থাকবেন একজন নারী। এটি পরিচালনা করবেন অয়ন চক্রবর্তী।

রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’ সিনেমার মাধ্যমে ক্যারিয়ারে বড় সাফল্য পান মিমি চক্রবর্তী। এরপর ‘যোদ্ধা’ এবং ২০১৫ সালের ‘কাঠমাণ্ডু’ সিনেমাতেও তাঁরা একসঙ্গে কাজ করেন। কাজ করতে গিয়েই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে জানা যায়। তবে সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত টেকেনি। পরবর্তীতে শুভশ্রী গাঙ্গুলীকে বিয়ে করেন রাজ।

দীর্ঘ সময় পর এবার আবারও রাজের প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছেন মিমি। জানা গেছে, প্রস্তাব পাওয়া সারভাইভাল থ্রিলার প্রজেক্টটি নিয়ে অভিনেত্রীও আগ্রহী। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের শেষ দিকে শুটিং শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মিমি।

রাজ ও মিমির এই পেশাগত পুনর্মিলনের খবর সামনে আসার পর থেকেই টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। একই সময়ে একদিকে দেব-শুভশ্রীর বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে রাজ-মিমির দীর্ঘ ১১ বছর পর একসঙ্গে কাজ করা, দুই ঘটনাই যেন পুরোনো সম্পর্কের প্রসঙ্গকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

দেব ও শুভশ্রী একসময় প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন। পরবর্তীতে তাঁদের বিচ্ছেদ হয় এবং দুজনেই আলাদা জীবনে এগিয়ে যান। শুভশ্রী পরে রাজ চক্রবর্তীকে বিয়ে করেন। তাই ‘দেশু ৭’-এ দেব-শুভশ্রীর একসঙ্গে কাজ করার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁদের অতীত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

এর মধ্যেই রাজের প্রযোজনা সংস্থার নতুন প্রজেক্টে মিমির যুক্ত হওয়ার খবরকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টলিপাড়ায় নানা প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ এটিকে নিছক পেশাগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ দেব-শুভশ্রীর প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে রাজ-মিমির পুনর্মিলনের যোগসূত্র খুঁজছেন। এমনকি ব্যক্তিগত অভিমান বা পাল্টা জবাবের মতো নানা জল্পনাও তৈরি হয়েছে।

তবে এসবের কোনোটি এখনো নিশ্চিত নয়। রাজ চক্রবর্তী কেন এই প্রজেক্টে মিমিকে বেছে নিয়েছেন, এর পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কোনো প্রভাব রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আপাতত এটুকুই স্পষ্ট, দীর্ঘ বিরতির পর রাজ ও মিমির এই পেশাগত সহযোগিতা এবং দেব-শুভশ্রীর কামব্যাক, দুই ঘটনাই টলিপাড়ায় নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।