ঢাকাই চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও অ্যাকশন ধারার পথিকৃৎ, কালজয়ী অভিনেতা জসিমের আজ জন্মদিন। আশি ও নব্বইয়ের দশকে রুপালি পর্দায় একক আধিপত্য বিস্তারকারী এই মহাতারকা একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল নায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। খলনায়ক, নায়ক, মুক্তিযোদ্ধা, প্রযোজক ও ফাইট ডিরেক্টর বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী এই শিল্পীর পুরো জীবনজুড়েই ছিল নানা আকর্ষণীয় এবং বিস্ময়কর অধ্যায়।
১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন জসিম, যার প্রকৃত নাম আবুল খায়ের জসিম উদ্দিন। অভিনয়ে আসার আগে তিনি ছিলেন এক বীর সেনানী; ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের অধীনে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এই সাহসী মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালে ‘দেবর’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তাঁর পদচারণা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে হিট সিনেমা ‘দোস্ত দুশমন’-এ খলনায়ক হিসেবে অভিনয় করে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হন। তবে বেশিদিন খলচরিত্রে আটকে থাকেননি, ‘সবুজ সাথী’ দিয়ে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা তৈরি করে নেন তিনি।
সাতচল্লিশ ও আশির দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে অ্যাকশন দৃশ্যকে নতুন রূপ দিয়ে তিনি ঢালিউডকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা ও ফাইট ডিরেকশনের মতো নেপথ্যের কাজেও তাঁর অবদান ছিল অনন্য। কিন্তু মাত্র ৪৮ বছর বয়সে, ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে অকালে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই মহাতারকা। তাঁর প্রয়াণে ঢালিউডে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা আজও পূরণ হয়নি।
বর্তমানে তাঁর অসামান্য অবদান এবং স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিএফডিসিতে (BFDC) একটি শুটিং ফ্লোরের নামকরণ করা হয়েছে ‘জসিম ফ্লোর’। যোদ্ধা, প্রডিউসার থেকে শুরু করে পর্দার নায়ক প্রতিটি রূপেই কোটি ভক্তের অন্তরে আজও অমলিন হয়ে আছেন এই অ্যাকশন কিংবদন্তি।