গানের টানে তরুণ বয়সেই ঘর ছেড়েছিলেন নগরবাউল জেমস। সময়ের পরিক্রমায় তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের রকসংগীতের অন্যতম আইকন, ভক্তদের প্রিয় ‘গুরু’। বয়স বাড়লেও মঞ্চে তার দাপট কমেনি। এখনও গান দিয়ে মাতিয়ে যাচ্ছেন শ্রোতাদের।

প্রায় দুই মাস ধরে ইউরোপে সংগীত সফরে রয়েছেন জেমস। পর্তুগাল, ইংল্যান্ড, সাইপ্রাস ও ইতালি ঘুরে বর্তমানে তিনি সুইডেনে। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গান শোনাবেন এই রক তারকা।

কনসার্ট উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের দীর্ঘ সংগীতজীবন ও ভবিষ্যৎ ভাবনা নিয়ে কথা বলেন জেমস। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগীত করতে হবে ভালোবাসা ও প্যাশন থেকে, কোনো প্রাপ্তির আশায় নয়।

জেমস বলেন, ‘গান করতে হবে একদম প্যাশন থেকে, নেশা থেকে। কোনো প্রাপ্তির আশায় যদি কেউ মিউজিক করে, তবে আমি বলব, এখনই বন্ধ করে দাও।’

আশির দশকের শুরুর দিকে চট্টগ্রামে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডের গিটারিস্ট ও ভোকাল হিসেবে সংগীতজীবন শুরু করেন জেমস। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’। এরপর কয়েক দশক ধরে তার গান মুগ্ধ করেছে একের পর এক প্রজন্মের শ্রোতাকে।

দীর্ঘ সংগীতযাত্রার প্রসঙ্গে জেমস বলেন, ‘যখনই মঞ্চে দাঁড়াই, মনে হয় সবাই আগেরই শ্রোতা। এর মধ্যে যে সময় বয়ে যাচ্ছে, জেনারেশন চেঞ্জ হচ্ছে এটা খেয়ালই করিনি। এখন মনে হয় অনেকগুলো জেনারেশনকে হয়তো গান শোনাতে পারছি।’

জীবনে কোনো কিছু পাওয়ার আশায় গান করেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, কোনো কিছু পাওয়ার জন্য মিউজিক করা ঠিক না। মিউজিক করতে হবে নিজের প্রশান্তির জন্য। এর মাধ্যমে যদি কিছু অর্জন হয়, সেটা ভিন্ন কথা। আজ যদি আমি কোনো কিছু নাও পেতাম, তাহলেও গানই করে যেতাম।’

গানকেই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সঙ্গী করে রাখতে চান জেমস। ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাদা কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও মঞ্চে গান গেয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তার অটুট।

তার ভাষায়, ‘সংগীত নিয়ে আলাদা কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নেই। গান গেয়ে যাব, শেষ পর্যন্ত গাইতেই চাই। এমনকি শেষে গিয়ে যদি দেখি মাত্র একজন দর্শকও আছে, আমি তার জন্যও গান গেয়ে যাব।’