সালমান খানের বহুল আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলার আদলে নির্মিত বলে আলোচনায় থাকা চলচ্চিত্র ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’-এর দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক টিজার প্রকাশ করেছেন নির্মাতারা। ছবিটি ঘিরে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। এদিকে ছবির শুটিং, প্রচারণা ও মুক্তি স্থগিতের আবেদন জানিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন সালমান খান। সেই আইনি লড়াই চলমান থাকলেও নির্মাতারা নতুন টিজার প্রকাশ করে আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছেন।
নতুন টিজারে একটি আদালতকক্ষের দৃশ্য দেখানো হয়েছে, যেখানে ‘আয়ান খান’ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কালো হরিণ শিকারের অভিযোগ নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। শুনানির সময় এক সাক্ষী ঘটনার রাতের বিবরণ তুলে ধরছেন। টিজারের বিভিন্ন উপাদানে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন দর্শকরা। মূল চরিত্রটির হাতে সালমান খানের পরিচিত ব্রেসলেটের মতো একটি ব্রেসলেট দেখা গেছে। পাশাপাশি ‘দাবাং’ ও ‘সিকান্দার’ শব্দের ব্যবহারও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা অনেকের মতে সরাসরি সালমান খানের প্রতি ইঙ্গিত বহন করে।
ছবিটির মুক্তি স্থগিত চেয়ে সালমান খান যে আবেদন করেছিলেন, তার শুনানি সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্ট পিছিয়ে দিয়েছে। ঠিক সেই সময়েই টিজারটি প্রকাশ করা হয়েছে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ শিগগিরই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। তবে এখনো ছবিটির নির্দিষ্ট মুক্তির তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে ছবিটিকে ঘিরে বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সাক্ষী হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ছবিতে প্রবীণ অভিনেতা গোবিন্দ নামদেবকে বিষ্ণোই সমাজের আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা গেছে। ‘আয়ান খান’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাশিফ ইকবাল খান। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন ভারত এস শ্রীনেত।
এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে সালমান খানের বহু বছর ধরে চলমান কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলা। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালে যোধপুরের কাঁকানি গ্রামের কাছে গভীর রাতে দুটি সংরক্ষিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করা হয়। সে সময় সালমান খানের সঙ্গে সাইফ আলী খান, টাবু, সোনালি বেন্দ্রে এবং নীলমও উপস্থিত ছিলেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।
রাজস্থানের বিষ্ণোই সম্প্রদায় কৃষ্ণসার হরিণকে অত্যন্ত পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে এবং বন্য প্রাণী সংরক্ষণে তাদের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ১৯৯৮ সালের ২ অক্টোবর বিষ্ণোই সমাজের সদস্যরা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে ১৯৯৮ সালের ১২ অক্টোবর সালমান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। কয়েক দিন কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি অস্ত্র আইনে একটি পৃথক মামলাও রুজু হয়।
২০০৬ সালের ১০ এপ্রিল নিম্ন আদালত সালমান খানকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালত সেই সাজা স্থগিত রাখেন। পরে ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল যোধপুরের একটি আদালত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলায় তাঁকে আবারও দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। একই মামলায় সহ-অভিযুক্ত সাইফ আলী খান, টাবু, সোনালি বেন্দ্রে ও নীলমকে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর সালমান খান দুই দিন যোধপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। সেই আপিলের নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
এই মামলাকে কেন্দ্র করে পরবর্তী সময়ে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ও তাঁর গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সালমান খানকে একাধিকবার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এমনকি মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অবস্থিত তাঁর গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের একাংশের দাবি, কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ মুক্তির আগেই নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা তৈরি করেছে।