বলিউডের ‘ট্র্যাজেডি কুইন’ মীনা কুমারীর জীবন ছিল সিনেমার গল্পের চেয়েও নাটকীয়। তার কালজয়ী সিনেমা ‘পাকিজা’র শুটিং চলাকালীন মধ্যপ্রদেশের চম্বলের জঙ্গলে ঘটেছিল এক রোমহর্ষক ঘটনা। সিনেমার পরিচালক ও স্বামী কামাল আমরোহীর সঙ্গে যাওয়ার পথে হঠাৎ জনমানবহীন জঙ্গলে তাদের গাড়ির জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে একদল সশস্ত্র ডাকাত তাদের গাড়ি ঘিরে ধরে। ডাকাতদের দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন দম্পতি।
ডাকাত দলের সর্দার অমৃত লাল চম্বল তাদের পরিচয় জানতে চাইলে কামাল আমরোহী জানান যে তারা সিনেমার শুটিং করতে এসেছেন। ‘শুটিং’ শব্দটি শুনে ডাকাতরা প্রথমে উত্তেজিত হয়ে পড়লেও পরে ভুল বুঝতে পেরে শান্ত হয়। ডাকাত সর্দার যখন জানতে পারেন অন্য গাড়িতে স্বয়ং মীনা কুমারী বসে আছেন, তখন তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। অমৃত লাল ছিলেন মীনা কুমারীর একনিষ্ঠ ভক্ত। তিনি তৎক্ষণাৎ অভিনেত্রীর অটোগ্রাফ দাবি করেন। কিন্তু কাছে কলম বা কাগজ না থাকায় সর্দার নিজের পকেট থেকে ধারালো একটি ছুরি বের করেন।
ছুরির কথা শুনে মীনা কুমারী চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও ডাকাত সর্দার এক অদ্ভুত আবদার জুড়ে বসেন। তিনি জানান, মীনা কুমারী যদি ওই ছুরি দিয়ে তার হাতে নিজের নাম লিখে দেন, তবেই তিনি তাদের পথ ছাড়বেন। অনেকটা বাধ্য হয়েই কাঁপাকাপঁ হাতে ডাকাত সর্দারের হাতে ছুরি দিয়ে নিজের নাম খোদাই করে অটোগ্রাফ দেন অভিনেত্রী। প্রিয় অভিনেত্রীর হাতের ছোঁয়া পেয়ে খুশি হয়ে সর্দার নিজে লোক পাঠিয়ে গাড়িতে পেট্রোল ভরে তাদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।