‘কিং অব পপ’ খ্যাত মাইকেল জ্যাকসনের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’ মুক্তির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে তুমুল সাড়া ফেলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বড় পর্দায় আসা এই বায়োপিকটি বক্স অফিসে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়ছে। ২৪ এপ্রিল মুক্তির পর থেকে ছবিটি বিশ্বব্যাপী দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ‘মাইকেল’ ইতোমধ্যে ৯১১ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে। এর মাধ্যমে মিউজিক্যাল বায়োপিক ঘরানার চলচ্চিত্র হিসেবে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড নিজেদের করে নিয়েছে ছবিটি।

এর আগে এই রেকর্ড ছিল কিংবদন্তি ব্যান্ড কুইনের প্রধান কণ্ঠশিল্পী ফ্রেডি মার্কারির জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘বোহেমিয়ান র‍্যাপসডি’র দখলে। ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি বিশ্বব্যাপী ৯১০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল। সেই দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে ‘মাইকেল’।

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান গতিধারা অব্যাহত থাকলে চলতি সপ্তাহেই ছবিটি এক বিলিয়ন ডলার আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করবে। তা হলে এটি হবে ইতিহাসের প্রথম মিউজিক্যাল বায়োপিক, যা বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে জায়গা করে নেবে।

ছবিটি পরিচালনা করেছেন অ্যান্টোইন ফুকোয়া। এতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তারই ভাতিজা জাফার জ্যাকসন। কিংবদন্তি এই শিল্পীর চরিত্রে জাফারের অভিনয় ইতোমধ্যেই দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, চেহারা, অভিব্যক্তি ও মঞ্চ উপস্থিতিতে তিনি মাইকেল জ্যাকসনের স্মৃতিকে জীবন্ত করে তুলেছেন।

এ ছাড়া ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন নিয়া লং, জুলিয়ানো ভালদি, কেলিন ডারেল জোনস এবং লরা হ্যারিয়ার। প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির পর থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে।

সংগীত, নৃত্য, সংগ্রাম, সাফল্য এবং বিতর্ক সব মিলিয়ে মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের নানা অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে ‘মাইকেল’-এ। আর সেই কারণেই শুধু ভক্তরাই নন, সাধারণ দর্শকদের মধ্যেও ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বক্স অফিসের বর্তমান সাফল্য বলছে, ‘কিং অব পপ’-এর জনপ্রিয়তা মৃত্যুর পরও এতটুকু কমেনি; বরং নতুন প্রজন্মের কাছেও তিনি সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।