হলিউড থেকে বলিউড, সন্তানসম্ভবা অবস্থায় রূপালি পর্দায় অ্যাকশন কিংবা কঠিন দৃশ্যে অভিনয় করার নজির একাধিক তারকার রয়েছে। তবে গর্ভে সন্তান নিয়ে অভিনয় করতে গিয়ে সত্যিই জীবনের বড় ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা বেশ বিরল। সত্তরের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের জীবনেও ঘটেছিল এমনই এক ভয়ংকর ঘটনা।

১৯৭৪ সালে মুক্তি পাওয়া কালজয়ী সিনেমা ‘রোটি কাপড়া অউর মকান’-এর একটি স্পর্শকাতর দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে শুটিং ফ্লোরেই রক্তপাতের শিকার হয়েছিলেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে বলিউড ইতিহাসের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এই শুটিং অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে।

মনোজ কুমার পরিচালিত, রচিত ও প্রযোজিত ‘রোটি কাপড়া অউর মকান’ ছিল ১৯৭৪ সালের অন্যতম বড় হিট সিনেমা। সামাজিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবির গল্পে মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রের ওপর যৌন নির্যাতনের একটি দৃশ্য ছিল। কিন্তু সেই সময় বাস্তব জীবনেও সন্তানসম্ভবা ছিলেন অভিনেত্রী। গর্ভে সন্তান নিয়ে এমন ধস্তাধস্তির দৃশ্যে অভিনয় কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা ভেবে শুটিংয়ের আগেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

সিনেমাটির একটি দৃশ্যের শুটিং হচ্ছিল আটার গুদামে। চিত্রনাট্য অনুযায়ী, খলনায়কদের কবল থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন তাঁর চরিত্র। দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র শারীরিক চাপ ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আচমকাই রক্তপাত শুরু হয়। ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং ভাগ্যক্রমে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর গর্ভস্থ সন্তান। ঘটনাটি পরবর্তীকালে বলিউডের ঝুঁকিপূর্ণ শুটিং অভিজ্ঞতার আলোচনায় উঠে এসেছে।

মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিখ্যাত সংগীতশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের ছেলে জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। সত্তরের দশকে হিন্দি সিনেমার অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রী হিসেবেও পরিচিতি ছিল তাঁর। অল্প বয়সেই মাতৃত্বের স্বাদ পান তিনি।

অমিতাভ বচ্চন, শশী কাপুর ও জিনাত আমানের মতো তারকাদের নিয়ে নির্মিত ‘রোটি কাপড়া অউর মকান’ মুক্তির পর বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পায়। সিনেমাটির গানও দর্শকের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়। তবে রুপালি পর্দার সেই বর্ণিল সাফল্যের আড়ালে আটার গুদামের শুটিং ফ্লোরে ঘটে যাওয়া ভয়ংকর অভিজ্ঞতা মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হয়ে আছে।