যশরাজ ফিল্মসের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘মর্দানি’র তৃতীয় কিস্তি ‘মর্দানি ৩’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। আগের দুটি সিনেমার সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও বড় পর্দায় ফিরছেন রানী মুখার্জি। তবে এই সিনেমার শুটিং তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে ক্লাইম্যাক্স দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে টানা ১৮ ঘণ্টা ক্যামেরার সামনে থাকতে হয়েছে তাকে, যা ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন এক অভিজ্ঞতা।

সম্প্রতি সিনেমাটির শুটিংয়ের নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন রানী মুখার্জি। তিনি জানান, প্রতিটি সিনেমার কাজেই আলাদা ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকে। তবে তার জন্য সবচেয়ে কঠিন বিষয় হলো রাতভর শুটিং করা। কারণ ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ভোরে ঘুম থেকে ওঠা এবং রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাসে অভ্যস্ত।

রানী বলেন, “আমি স্বভাবগতভাবেই সকালের মানুষ। সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে এবং রাতে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে ভালোবাসি। তাই যখন রাতের শিফটে শুটিং করতে হয়, তখন আমাকে পুরো রুটিন বদলে ফেলতে হয়। আমি দিনের বেলা ঘুমাতেও খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। ফলে রাতের শিডিউলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা আমার জন্য সবসময়ই কঠিন হয়ে পড়ে।”

তবে রাতের শুটিংয়ের কষ্টের মাঝেও একটি ভিন্ন ধরনের সৌন্দর্য খুঁজে পান এই অভিনেত্রী। তার মতে, গভীর রাতে শুটিং সেটের পরিবেশে এক বিশেষ আবহ তৈরি হয়, যা দিনের ব্যস্ত সময়ে পাওয়া যায় না।

রানীর ভাষায়, “রাতে শুটিং করার মধ্যে আলাদা একটা জাদু আছে। পুরো শহর যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন শুধু ফিল্ম ইউনিটের সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করে যান। চারপাশে এক ধরনের নীরবতা বিরাজ করে, যা শুটিংয়ের সময় মনোযোগ ও আবেগকে আরও গভীর করে তোলে। সেই অনুভূতিটা সত্যিই অন্যরকম।”

তবে ‘মর্দানি ৩’-এর ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যই ছিল তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই দৃশ্য ধারণ করতে টানা ১৮ ঘণ্টা শুটিং করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

রানী বলেন, “সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা ছিল ক্লাইম্যাক্স সিকোয়েন্সের শুটিং। বিকেল ৩টা থেকে শুটিং শুরু হয়েছিল, যা শেষ হয় পরদিন সকাল ১০টায়। টানা ১৮ ঘণ্টা কাজ করা শুধু সময়ের কারণেই কঠিন ছিল না, দৃশ্যটিও ছিল শারীরিকভাবে অত্যন্ত ডিমান্ডিং। এতে প্রচুর শক্তি, মনোযোগ এবং তীব্র আবেগের প্রয়োজন ছিল। পুরো রাত জেগে কাজ করার পর মনে হয়েছিল, আমি যেন আমার ধৈর্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি।”

তবে এত কষ্টের পরও নিজের পরিশ্রমকে সার্থক বলেই মনে করছেন এই অভিনেত্রী। তার বিশ্বাস, ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যটি যেভাবে পর্দায় ফুটে উঠেছে, তা দর্শকদের মুগ্ধ করবে।

তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত দৃশ্যটি যেভাবে পর্দায় এসেছে, তা দেখে আমার মনে হয়েছে এই দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম এবং কষ্ট একেবারেই সার্থক হয়েছে।”

অ্যাকশন, আবেগ ও রহস্যে ভরপুর ‘মর্দানি’ সিরিজের আগের দুটি কিস্তিতে পুলিশের সাহসী কর্মকর্তা শিবানী শিবাজি রায়ের চরিত্রে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন রানী মুখার্জি। তৃতীয় কিস্তিতেও আরও বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফিরছেন তিনি। আর সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই টানা ১৮ ঘণ্টার কঠিন শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে।