তিন বছর আগে মেজবাউর রহমান সুমনের প্রথম চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’ দেশ-বিদেশে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এই নির্মাতা ফিরছেন তাঁর দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রইদ’ নিয়ে। মঙ্গলবার ট্রেলার ও পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই সিনেমাটি চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ট্রেলারটি শিল্পী, পরিচালক এবং সাধারণ দর্শকদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এই সিনেমার একটি বড় অর্জন হলো বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামের’ ৫৫তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশনে’ অফিশিয়ালি নির্বাচিত হওয়া। বাংলাদেশের কোনো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য এটিই প্রথম এমন প্রাপ্তি, যা বাংলা সিনেমার আন্তর্জাতিক অগ্রযাত্রায় এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই উৎসবে আগে ক্রিস্টোফার নোলান ও বং জুন-হোর মতো বিশ্বখ্যাত নির্মাতাদের কাজ প্রদর্শিত হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন জানান, সাদু, তার পাগল স্ত্রী এবং তাদের বাড়ির পাশের একটি তালগাছকে কেন্দ্র করে এই গল্পটি আবর্তিত হয়েছে। তিনি বলেন, হাজার বছরের পুরোনো এক আখ্যানকে অনুভূতির বর্তমানে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে এই ছবিতে, যেখানে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের দেখা গ্রামীণ বাংলার আবহ ফুটে উঠেছে।

‘রইদ’ ছবির ট্রেলার দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন ‘হাওয়া’ খ্যাত অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “কী অসাধারণ কাজ! প্রত্যেকটা ফ্রেমে জীবন আর শিল্প মিলেমিশে একাকার!” এছাড়াও নির্মাতা রেদওয়ান রনি, মাহমুদ দিদার এবং চলচ্চিত্র সমালোচক সাকিব চৌধুরী ছবিটিকে ‘মহাকাব্যিক’ ও ‘দৃশ্যকাব্য’ বলে অভিহিত করেছেন।

ট্রেলার প্রকাশের পর সাধারণ দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ছিল ইতিবাচক। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এই ‘রইদ’ হয়তো ‘হাওয়া’র সাফল্যকেও ছাড়িয়ে যাবে। নাজিফা তুষি এবং মোস্তাফিজুর নুর ইমরানের শক্তিশালী অভিনয়, দুর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফি ও শৈল্পিক নির্মাণের কারণে দর্শকেরা একে বিদেশি উন্নত মানের সিনেমার সঙ্গে তুলনা করছেন। অনেকের মতেই, বাংলাদেশের সিনেমা সুমনের মতো কারিগরদের হাত ধরে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে।