দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নাটকে ফিরেছেন অভিনেত্রী শার্লিন ফারজানা। অভিনয়ের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই ক্যারিয়ার শুরু করা এই অভিনেত্রী জানিয়েছেন, শুরুর দিকে সহশিল্পী জিয়াউল ফারুক অপূর্ব তাঁকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। এখনো অপূর্বের সঙ্গে কাজ করতে সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি। তাই তাঁর সঙ্গে নতুন কাজের প্রস্তাব পেয়ে খুব বেশি চিন্তা না করেই রাজি হয়েছেন শার্লিন।
অপূর্বের সঙ্গে কাজের স্বাচ্ছন্দ্যের কারণ হিসেবে শার্লিন বলেন, অভিনেতা হিসেবে তাঁর নিজস্ব একটি মান রয়েছে এবং তিনি ভীষণ সহযোগিতাপরায়ণ। কাজের সময় ছোটখাটো বিষয়ও তিনি খেয়াল করেন এবং প্রয়োজন হলে সহশিল্পীদের পরামর্শ দেন। এমনকি কোনো শিল্পীর ক্লোজ শট বাদ পড়ে গেলে সেটিও পরিচালককে মনে করিয়ে দেন। শার্লিনের মতে, এ কারণেই তাঁর সঙ্গে কাজ করার সময় শিল্পীরা সহজেই একটি কমফোর্ট জোন তৈরি করতে পারেন।
দীর্ঘ বিরতির পর নাটকের বর্তমান নির্মাণব্যবস্থার পরিবর্তনও ভালো লেগেছে শার্লিনের। তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এমনও হয়েছে, একই দিনে দুটি নাটকের শুটিং করতে হয়েছে। বর্তমানে সেই অতিরিক্ত চাপ অনেকটাই কমেছে। ফলে শিল্পীরা চরিত্র নিয়ে কাজ করার জন্য বেশি সময় পাচ্ছেন এবং এতে নাটকের মানও উন্নত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
অনেক সহশিল্পী যখন সিনেমা ও ওটিটিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন, তখন নাটকে ফেরার কারণও জানিয়েছেন শার্লিন। তাঁর ভাষায়, নাটককে তিনি ভীষণ মিস করছিলেন। নাটক দিয়েই তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু এবং এই মাধ্যমে কাজের আলাদা উন্মাদনা ও সৌন্দর্য রয়েছে। একটি নাটকের ৪০ থেকে ৬০ মিনিটের গল্প অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি করতে গিয়ে পুরো টিমের মধ্যে যে চমৎকার রসায়ন তৈরি হয়, সেটিই তিনি সবচেয়ে বেশি মিস করছিলেন।
শার্লিন মনে করেন, পুরো এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের নাটকের আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে। পাকিস্তানি বা ভারতীয় সিরিজের তুলনায় বাংলাদেশের নাটকে অনেক সময় বেশি পরিচ্ছন্নতা ও নিজস্বতা দেখা যায় বলে তাঁর মত। সেই কারণেই আবার ভালো চরিত্রে অভিনয় করার ইচ্ছা থেকে নাটকে ফিরেছেন তিনি। তবে নিয়মিত নাটকে সময় দেওয়ার মতো সুযোগ তাঁর নেই। তাই প্রতি মাসে দুই-তিনটি ভালো কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
সামনে বেশ কয়েকটি কাজের প্রস্তাব পেয়েছেন শার্লিন। এরই মধ্যে কয়েকটি কাজ চূড়ান্ত করেছেন, যেগুলোর কিছু আগামী ঈদে প্রচার হতে পারে। নভেম্বরের দিকে ঈদের কাজের শুটিং শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই হাতে থাকা কয়েকটি কাজ শেষ করতে চান তিনি।
দীর্ঘ বিরতির পর ক্যামেরার সামনে ফিরতে গিয়ে শুরুতে নিজের চেহারা ও ক্যামেরায় উপস্থিতি নিয়ে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন শার্লিন। তবে অপূর্ব তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, অভিনয় ভালো হলে এসব নিয়ে চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। শুটিংয়ের প্রথম দিন কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও ক্যামেরায় নিজেকে দেখার পর সেই সংশয় কেটে যায় তাঁর।
চরিত্রের প্রস্তুতি নিয়ে শার্লিনের বিশ্বাস, ছোটবেলা থেকে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝার ক্ষেত্রে অবচেতনভাবে সহায়তা করে। পাশাপাশি চরিত্রের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন বাস্তব মানুষ, সিনেমা বা ভিজ্যুয়াল থেকেও ধারণা নেন তিনি। তবে তাঁর মতে, একটি ভালো স্ক্রিপ্ট এবং শক্তিশালী টিমওয়ার্কই চরিত্র ফুটিয়ে তোলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বই পড়ার অভ্যাসও এখনো ধরে রেখেছেন শার্লিন। তাঁর বাবা সাহিত্যের মানুষ হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই বই ও সাহিত্যের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। বর্তমানে অবশ্য সাহিত্যনির্ভর বইয়ের পাশাপাশি সেলফ-হেল্প ও মার্কেটিংয়ের বই পড়ছেন তিনি। ভবিষ্যতে করপোরেট চাকরিতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা থেকেই এসব বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে তাঁর।
অভিনয়ের পাশাপাশি করপোরেট জগতে কাজ করার পরিকল্পনাও করছেন শার্লিন। তাঁর স্বামীর কাছ থেকেই মূলত এই ভাবনার শুরু। চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়মিত চাকরির জীবনকে একবার অভিজ্ঞতা করে দেখতে চান তিনি। এর আগে করোনার সময় ঘরে বসে না থেকে ফুড বিজনেস শুরু করেছিলেন এবং সেটি সফলও হয়েছিল। ভবিষ্যতেও অভিনয়ের পাশাপাশি অন্য একটি পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান এই অভিনেত্রী।
একজন মা হিসেবে সন্তানের জন্য কেমন বাংলাদেশ চান, সেটিও জানিয়েছেন শার্লিন। তাঁর প্রত্যাশা খুব সাধারণ, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনীয় সেবাগুলো নিশ্চিত করা। শিক্ষার হার বাড়ানো, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, লোডশেডিং ও যানজট কমানো এবং দুর্নীতি কমানোর মতো বিষয়গুলোকে তিনি বড় অবকাঠামোর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। এসব ক্ষেত্রে স্বস্তি ফিরলে দেশের সন্তানদের জন্য আরও সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি হবে বলে বিশ্বাস তাঁর।