বলিউডের ইতিহাসে অনেক অভিনেত্রীর জীবনেই দেখা গেছে, এক রাতেই খ্যাতির শিখরে ওঠা আবার মুহূর্তেই সবকিছু হারিয়ে ফেলা। তেমনই এক নায়িকা সোনম। কৈশোরে বলিউডে পা রেখেই তিনি মাধুরী দীক্ষিত ও শ্রীদেবীর সমকক্ষ হয়ে ওঠেন। অমিতাভ বচ্চন, ঋষি কাপুর, নাসিরুদ্দিন শাহদের মতো কিংবদন্তি অভিনেতাদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন। কিন্তু ক্যারিয়ারের একেবারে শীর্ষ সময়ে নেওয়া এক সিদ্ধান্ত বদলে দেয় তাঁর পুরো জীবন।
সোনমের জন্ম ১৯৭২ সালে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৮৮ সালের ‘বিজয়’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটে তাঁর। এরপর ‘ত্রিদেব’, *‘আজুবা’*সহ একাধিক ছবিতে অভিনয় করে তিনি দ্রুতই দর্শকের প্রিয় হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে ‘ত্রিদেব’ ছবির সুপারহিট গান ‘ওয়ে ওয়ে… তিরছি টুপি ওয়ালে’ তাঁকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, তিনি বলিউডে দীর্ঘসময় রাজত্ব করবেন।
কিন্তু মাত্র ১৮ বছর বয়সেই সোনম বিয়ে করেন নিজের থেকে দ্বিগুণ বয়সী পরিচালক রাজীব রাইকে। রাজীব ছিলেন বিখ্যাত প্রযোজক গুলশন রাইয়ের ছেলে। বিয়ের পর সোনম ধর্মান্তরিত হন এবং ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে যান। এই সময় সালমান খানের সঙ্গে ‘বাগি’ ছবির নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব আসে তাঁর কাছে, কিন্তু তিনি তা ফিরিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, আরও বেশ কিছু বড় প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। ২০ বছর বয়সে মা হওয়ার পর পুরোপুরি সংসার ও পরিবারকে সময় দেন।
কিছুদিন পরই দাম্পত্যে অশান্তি শুরু হয়। শোনা যায়, রাজীব রাই আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন আবু সালেমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এই কারণে নিরাপত্তার খাতিরে তাঁরা মুম্বাই ছেড়ে বিদেশে চলে যান। তবে বিদেশে স্থায়ী হতে চাননি সোনম। তিনি একমাত্র ছেলে গৌরবকে নিয়ে মুম্বাই ফিরে আসেন এবং একাই তাঁকে বড় করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র ছয় বছরের মাথায় ভেঙে যায় তাঁদের দাম্পত্য।
অনেক বছর একা থাকার পর ২০১৭ সালে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন সোনম। তাঁর স্বামী মুরালি ছিলেন ব্যবসায়ী, সিনেমাজগতের কেউ নন। তখন সোনমের ছেলে গৌরবের বয়স ছিল ২৫ বছর। তবে মজার ব্যাপার হলো, এই বিয়ের খবর তিনি প্রকাশ করেন আরও আট বছর পর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে।
সব উত্থান–পতনের মধ্য দিয়েও সোনম নিজের জীবনটা লড়ে গেছেন একাই। সন্তানকে একা মানুষ করেছেন, তবে আর কখনো সিনেমার জগতে ফেরেননি। তাঁর ঝলমলে ক্যারিয়ার যত দ্রুত শুরু হয়েছিল, তত দ্রুতই থেমে যায়। তবুও বলিউডপ্রেমীদের কাছে সোনম এখনো এক নস্টালজিয়ার নাম। বিশেষ করে ‘ওয়ে ওয়ে’ গানে তাঁর উপস্থিতি আজও দর্শকদের মনে অমলিন হয়ে আছে।