বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম এবং সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। পর্দায় শাহরুখ খানকে ‘রোমান্স কিং’ বলা হলেও বাস্তবে আমির নিজেকে ভীষণ রোমান্টিক দাবি করে জানান, তাঁর জীবনের তিনটি সম্পর্ক—রীনা দত্ত, কিরণ রাও এবং গৌরী স্প্র্যাট তাঁকে সমৃদ্ধ করেছে। আমির স্বীকার করেন, দর্শকদের হৃদয় জয় করতে গিয়ে একসময় তিনি নিজের পরিবার ও সন্তানদের অবহেলা করেছিলেন, যা তাঁকে এখন পীড়া দেয়।
আমিরের প্রথম বিয়ে হয়েছিল ১৯৮৬ সালে রীনা দত্তের সঙ্গে, যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। দীর্ঘ ১৬ বছরের সেই সংসারে তাঁদের দুই সন্তান জুনায়েদ ও ইরা জন্ম নেয়। রীনাকে আমিরের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের শক্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০২ সালে বিচ্ছেদ হলেও রীনার প্রতি আমিরের শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্ব আজও অটুট। আমিরের মতে, রীনার সঙ্গে বড় হওয়া এবং জীবনের সংগ্রাম ভাগ করে নেওয়া তাঁর মানসিক পরিপক্বতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
রীনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০০৫ সালে আমির বিয়ে করেন কিরণ রাওকে। লগান সিনেমার সেটে পরিচয় হওয়া কিরণ আমিরের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে ১৬ বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২১ সালে তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ হলেও তাঁরা এখনও বন্ধু হিসেবে একে অপরের পাশে আছেন এবং সন্তান আজাদকে একসঙ্গেই বড় করছেন। বলিউডে এই বিচ্ছেদ পরবর্তী বন্ধুত্বকে বিরল ও পরিপক্বতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।
দুটি দীর্ঘ দাম্পত্যের পর ৬০ বছর বয়সে এসে আমির খান নতুন করে প্রেমে পড়েছেন গৌরী স্প্র্যাটের। চলতি বছরের মার্চে নিজের জন্মদিনে তিনি গৌরীর সঙ্গে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন। আমির জানান, জীবনের এই পর্যায়ে নতুন সম্পর্কের আশা তিনি করেননি, কিন্তু গৌরীর উপস্থিতি তাঁর জীবনে অদ্ভুত শান্তি ও স্থিতি নিয়ে এসেছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমিরের বর্তমান ও প্রাক্তন সবাই মিলে এখন একটি বড় পরিবারের মতো বসবাস করছেন।
নিজের জীবনের সম্পর্কের মূল্যায়ন করতে গিয়ে আমির খান বলেন, বিবাহিত জীবনে দুবার সফল না হলেও রীনা, কিরণ এবং গৌরীর মতো মানুষদের পাশে পাওয়া তাঁর জীবনের বিশাল সৌভাগ্য। তিনি মনে করেন, ভালোবাসা, ব্যর্থতা এবং পুনরায় শুরু করার সাহসই তাঁকে মানুষ হিসেবে পূর্ণতা দিয়েছে। পর্দায় তিনি নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা করলেও বাস্তবে নিজেকে একজন আবেগপ্রবণ মানুষ হিসেবেই দেখেন, যিনি ভাঙা সম্পর্ক থেকেও ইতিবাচক কিছু খুঁজে নিতে জানেন।