‘লায়লা মজনু’, ‘বুলবুল’, ‘কলা’, ‘অ্যানিমেল’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ‘মা বাহেন’ প্রতিটি কাজেই নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছেন তৃপ্তি দিমরি। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মা বাহেন’ সিনেমায় জয়া চরিত্রে অভিনয় করে আবারও প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী।
এক আড্ডায় ছবিটির শুটিং অভিজ্ঞতা, সহশিল্পীদের সঙ্গে সম্পর্ক, ক্যারিয়ারের সিদ্ধান্ত এবং সমাজে নারীদের অবস্থান নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তৃপ্তি।
‘মা বাহেন’-এ কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছবিটির শুটিং ছিল তার জন্য দারুণ উপভোগ্য। প্রতিদিন শুটিংয়ে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেন, আর কাজ শেষ হওয়ার পর মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এমনকি ছবির প্রচারণার সময়ও পুরো টিমের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগত তার। তৃপ্তির ভাষায়, টিমটির সঙ্গে দেখা হলেই মনে হতো তিনি যেন নিজের পরিবারের কাছেই ফিরে এসেছেন।
নেটফ্লিক্সের এই ডার্ক কমেডিতে তৃপ্তি অভিনয় করেছেন মাধুরী দীক্ষিতের মেয়ের চরিত্রে। পর্দায় মা-মেয়ের রসায়ন দর্শকদের নজর কাড়লেও এর পেছনে ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতি। তৃপ্তি জানান, একাধিক ওয়ার্কশপের মাধ্যমে তারা একে অপরকে শুধু সহশিল্পী নয়, মানুষ হিসেবেও জানতে পেরেছিলেন। ফলে ক্যামেরার সামনে সম্পর্কটিকে স্বাভাবিক ও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা সহজ হয়েছিল।
তবে ছবিতে মাধুরী দীক্ষিতের সঙ্গে তর্ক ও পাল্টা জবাব দেওয়ার দৃশ্য করতে গিয়ে শুরুতে কিছুটা দ্বিধায় ছিলেন তিনি। কারণ, মাধুরী তার কাছে একজন কিংবদন্তি তারকা। তবে মাধুরী নিজেই তাকে স্বাভাবিক থাকতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং চরিত্রের প্রয়োজনে নির্ভয়ে অভিনয় করতে বলেছেন।
শৈশবের একটি স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন তৃপ্তি। তিনি জানান, তাদের এলাকায় দুইজন অবিবাহিত ও আধুনিক চিন্তার নারীকে নিয়ে সমাজে নানা সমালোচনা হতো। ছোটবেলায় সেই বিষয়টি পুরোপুরি না বুঝলেও বড় হয়ে তিনি উপলব্ধি করেন, সমাজ কীভাবে নারীদের সহজেই বিচার করে। ‘মা বাহেন’-এর গল্প শুনে সেই নারীদের কথাই তার মনে পড়েছিল।
‘অ্যানিমেল’ সিনেমা নিয়ে হওয়া বিতর্ক ও সমালোচনার বিষয়েও কথা বলেন তৃপ্তি। তিনি স্বীকার করেন, সমালোচনা তাকে কষ্ট দেয়। তবে সেসব তার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করতে পারেনি। অভিনেত্রীর মতে, তিনি যে সিনেমাগুলোতে কাজ করেছেন, তার প্রতিটি নিয়েই গর্ববোধ করেন। ‘বুলবুল’, ‘লায়লা মজনু’, ‘মা বাহেন’ কিংবা ‘অ্যানিমেল’, সব কাজই তার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবসময় নিজেকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে চান তৃপ্তি। তার বিশ্বাস, একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলে একজন শিল্পীর বিকাশ থেমে যায়। তাই শুরু থেকেই ভিন্নধর্মী চরিত্র বেছে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন তিনি।
নারীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে তৃপ্তি বলেন, মানুষ খুব দ্রুত বিচার করে ফেলে, আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেই বিচার নারীদের লক্ষ্য করেই করা হয়। ‘মা বাহেন’-এর মতো গল্পের মাধ্যমে সেই মানসিকতার বিরুদ্ধে কথা বলতেই তিনি আগ্রহী।