Rani Mukerji অভিনীত Mardaani 3 ভারতে বক্স অফিসে ৬০ কোটি রুপি আয় করেছে এবং বিশ্বব্যাপী আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ কোটি রুপি। এর মধ্য দিয়ে ছবিটি হয়ে উঠেছে Mardaani ফ্র্যাঞ্চাইজির সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা। নারীপ্রধান গল্পে নির্মিত অ্যাকশন ড্রামা ছবির এই সাফল্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অভিনেত্রী।

ছবির সাফল্যে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রানী বলেন, “ ‘মারদানি ৩’ এত বড় পরিসরে দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পেরেছে এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এখন বক্স অফিসের আলোচনায় তথাকথিত আলফা মেল চরিত্রের আধিপত্য দেখা যায়। সেই সময় এই সাফল্য প্রমাণ করে যে নারীকেন্দ্রিক ছবিরও শক্তিশালী দর্শক আছে। আশা করি, ইন্ডাস্ট্রি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও গল্প তৈরি হবে।”

ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র শিবানি শিবাজি রায় সম্পর্কে রানী বলেন, তিনি কোনো কিছুর নারী সংস্করণ নন, বরং নিজেই একজন নায়ক। তাঁর পরিচয় সততা, সাহস ও সহমর্মিতা। রানীর ভাষায়, শিবানি তাঁর পুরুষ সহকর্মীদের সমান শক্তিশালী। দর্শক যেভাবে চরিত্রটিকে গ্রহণ করেছেন, তা প্রমাণ করে মানুষ এমন গল্পের জন্য প্রস্তুত, যেখানে একজন নারী কেবল আবেগের জায়গায় নয়, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিতে পারেন।

এই সাফল্যকে কেবল বক্স অফিসের সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তিনি। রানীর মতে, এটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। ভালো গল্প ও শক্তিশালী নারী চরিত্রনির্ভর চলচ্চিত্র নায়ককেন্দ্রিক ছবির পাশে সমানভাবে দাঁড়াতে পারে। তাঁর বিশ্বাস, নারীকেন্দ্রিক গল্পে বিনিয়োগ করা ঝুঁকি নয়, বরং বড় সুযোগ।

ভারতীয় সিনেমায় এমন গল্পের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, ‘মারদানি’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্য প্রমাণ করে যে ভারতীয় সিনেমায় নায়কের সংজ্ঞা এখন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ভিন্নধর্মী গল্প নির্মাণের জন্য এমন সাফল্য জরুরি, যেখানে একজন নারীও গল্পের অগ্রভাগে থাকবে।

নারীদের নিরাপত্তা ও সমাজের বাস্তবতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রানী। তিনি বলেন, 2012 Delhi gang rape case বা ‘নির্ভয়া’ শুধু একটি ঘটনা নয়, এ ধরনের ঘটনা আজও ঘটছে। সমাজ দ্রুত বড় ঘটনাগুলো ভুলে যায়, আর সেটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।

২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া Mardaani ছবির মধ্য দিয়ে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির যাত্রা শুরু হয়। তখন এটিকে সিরিজে রূপ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। নির্ভয়া ঘটনার পর সমাজে যে ক্ষোভ ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, সেখান থেকেই ছবিটির ধারণা জন্ম নেয় বলে জানান রানী।

একজন মা হিসেবেও বিষয়টি তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তাঁর একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। রানী বলেন, মা হওয়ার পর মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। সন্তান, পরিবার এমনকি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও একধরনের উদ্বেগ সব সময় কাজ করে। তবে ‘মারদানি’ তাঁকে নতুন শক্তি দেয় বলেও জানান তিনি। অনেক নারী যখন বলেন এই ছবি দেখে তারা নিজেদের শক্ত মনে করেছেন, তখন মনে হয় তারা ঠিক পথেই আছেন।

শক্তিশালী নারী চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে রানী বলেন, তিনি সব সময় ভালো গল্পের খোঁজ করেন। তাঁর মতে, ভারতীয় নারীরা নানাভাবে শক্তিশালী। কখনো তারা পড়াশোনা করছে, কখনো সংসার সামলাচ্ছে, কখনো পেশাগত দায়িত্ব পালন করছে, আবার কখনো ইউনিফর্ম পরে দেশের সেবা করছে। তিনি চান সেই শক্তিটাই পর্দায় ফুটে উঠুক।

তবে ভবিষ্যতে রোমান্টিক ঘরানার ছবিতেও কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ভালোবাসা ও আবেগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

টানা তিনটি ছবির মাধ্যমে ‘মারদানি’ ফ্র্যাঞ্চাইজিকে সফলতার ধারায় রেখেছেন রানী। গত ১২ বছর ধরে দর্শকের ভালোবাসা পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, শিবানি শিবাজি রায় এমন এক শক্তি ও দৃঢ়তার প্রতীক, যা নারীদের পাশাপাশি পুরো সমাজকেই অনুপ্রাণিত করে। তাঁর মতে, সাহস মানে সব সময় উচ্চস্বরে গর্জন করা নয়, বরং ধারাবাহিকভাবে নিজের অবস্থানে দৃঢ় থাকা। সম্ভবত এ কারণেই শিবানি এত মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে।