নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘বের করেন কোনো কিছু, আমার খুঁজে পান কি না? ভোট আমি ধানের শীষে দেব।’ পোস্টটির সঙ্গে একটি ছবি যুক্ত করে তিনি কার্যত নেটিজেনদের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন কি না, তার প্রমাণ দেখাতে।
ওমর সানীর এই বক্তব্যের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। অনেকেই তার পোস্টকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় শোবিজ অঙ্গনের একাধিক পরিচিত মুখ সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন সংগীতশিল্পী মনির খান, রবি চৌধুরী এবং নায়িকা শিমলাসহ আরও অনেকে, যারা প্রকাশ্যেই ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন।
তবে এসব তারকার বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ থাকার অভিযোগ তুলে সামাজিক মাধ্যমে ট্রলও চলছে। সেই প্রেক্ষাপটেই ওমর সানীর পোস্টটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে।
পোস্টের পর নেটিজেনদের একাংশ তাকে সরাসরি আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দেন। আবার কেউ কেউ তার পারিবারিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় তার স্ত্রী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমীর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি।
নেটিজেনদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমী একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার লক্ষ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন এবং এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন। পরে ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি তিনি ছেলে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র কিনতে যান। সে সময় তাকে ঘিরে ব্যাপক জনসমাগম ও সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ থেকে তিনি মনোনয়ন পাননি।
বর্তমানে মৌসুমী কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
সব মিলিয়ে, ওমর সানীর ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে ব্যক্তিগত অবস্থান, অতীত সংশ্লিষ্টতা এবং শোবিজ অঙ্গনের রাজনৈতিক ভূমিকা সবকিছুই আলোচনায় এসেছে।